যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডার ম্যারিয়ন কাউন্টির সিলভার নদীতে কুমিরের আক্রমণে দিনা স্প্যান (৫৮) নামের এক নারী তার ডান হাতের কব্জির নিচ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে গুরুতর আহত হয়েছেন। ভুক্তভোগীর ছেলে জ্যাক গুয়েরিনা জানিয়েছেন, মানুষ কুমিরকে খাবার দেওয়া, স্পর্শ করা এবং তাদের খুব কাছাকাছি যাওয়ার কারণে এই সরীসৃপগুলো মানুষের প্রতি স্বাভাবিক ভয় হারিয়ে ফেলেছে।
জ্যাক গুয়েরিনা জানান, টিকটকারদের বিভিন্ন ভিডিওতে দেখা যায় মানুষ কুমিরের অত্যন্ত কাছাকাছি যাচ্ছে বা তাদের পোষ মানানোর চেষ্টা করছে। এসব কাজের ফলে কুমিরগুলো মানুষের সান্নিধ্যে অভ্যস্ত হয়ে পড়ছে, যা তাদের আরও বিপজ্জনক করে তুলছে। তিনি জানান, ফ্লোরিডায় বেড়ে ওঠার সুবাদে তিনি সবসময় নদীতে সময় কাটালেও আগে কখনও এমন পরিস্থিতির মুখে পড়তে হয়নি।
আক্রমণের ঘটনার দিন দিনা স্প্যান নদীর নিষিদ্ধ এলাকায় সাঁতার কাটছিলেন। এ সময় একটি কুমির তার ডান হাত কামড়ে ধরে পানির নিচে টেনে নেওয়ার চেষ্টা করে। সৌভাগ্যবশত জন গামাচ নামের এক নৌকারোহী চিৎকার শুনে দ্রুত এগিয়ে এলে কুমিরটি পিছু হটে। গামাচ তার নৌকার দড়ি দিয়ে নারীর রক্তপাত বন্ধ করার চেষ্টা করেন এবং পরে তাকে উদ্ধার করে দ্রুত হাসপাতালে পাঠানোর ব্যবস্থা করেন।
চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, দিনা স্প্যানের ডান হাত কনুইয়ের নিচ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়েছে এবং বাম হাতের একটি আঙুলও তিনি হারিয়েছেন। বর্তমানে তিনি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। জ্যাক গুয়েরিনা মনে করেন, ফ্লোরিডায় কুমিরের সংখ্যা নিয়ন্ত্রণ করা প্রয়োজন। তিনি অভিযোগ করেন, গত কয়েক সপ্তাহে বেশ কয়েকটি আক্রমণের ঘটনায় অনেকে অঙ্গহানি ও মৃত্যুর শিকার হয়েছেন।
ঘটনার পর ফ্লোরিডা ফিশ অ্যান্ড ওয়াইল্ডলাইফ কনজারভেশন কমিশনের সহায়তায় ওই এলাকা থেকে ৯ ফুট ৮ ইঞ্চি লম্বা একটি কুমির অপসারণ করা হয়েছে। এরপর নদীটি পুনরায় জনসাধারণের জন্য উন্মুক্ত করা হয়েছে। ফ্লোরিডায় সাম্প্রতিক সময়ে একাধিক কুমিরের আক্রমণের ঘটনা জনমনে আতঙ্ক সৃষ্টি করেছে।