নিউজিল্যান্ডের ওটাগো বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক রবার্ট মুন জানিয়েছেন, ওজেম্পিক ও ওয়েগোভির মতো ওজন কমানোর ওষুধগুলো মস্তিষ্কের এমন একটি গোপন কেন্দ্রের সন্ধান দিয়েছে, যা মূলত আমাদের খাবার, অ্যালকোহল এবং বিভিন্ন নেশার প্রতি তীব্র আকাঙ্ক্ষা বা ‘ক্রেভিং’ তৈরি করে। এই আবিষ্কার স্থূলতা এবং মাদকাসক্তি চিকিৎসার নতুন দিগন্ত উন্মোচন করতে পারে।
সাধারণত আমাদের মস্তিষ্ক কোনো লোভনীয় খাবারের দৃশ্য দেখলে বা কল্পনা করলে তা পাওয়ার জন্য উদ্বুদ্ধ হয়। কিন্তু অনেকের ক্ষেত্রে এই প্রক্রিয়াটি অস্বাভাবিক হয়ে ওঠে, যার ফলে অতিরিক্ত আহার বা অ্যালকোহলে আসক্তির মতো সমস্যা দেখা দেয়। বিজ্ঞানীরা দশকের পর দশক ধরে এই ‘ক্রেভিং’ এবং আসক্তির মধ্যকার সংযোগ খুঁজে বের করার চেষ্টা করছিলেন।
গবেষকদের মতে, মস্তিষ্কের ল্যাটারাল সেপ্টাম নামক অংশটি এই প্রক্রিয়ার মূল নিয়ন্ত্রক। ল্যাটারাল সেপ্টাম মূলত আমাদের স্মৃতি এবং পারিপার্শ্বিক অবস্থার সঙ্গে প্রাপ্তিযোগের অনুভূতির সংযোগ ঘটায়। মানুষের দীর্ঘমেয়াদী স্মৃতি তৈরির স্থান হিপোক্যাম্পাস থেকে প্রাপ্ত তথ্যগুলো এখানে জমা হয় এবং সেখানে ‘কী পাওয়া গেলে ভালো হবে’—এমন সংকেত তৈরি হয়।
ওজেম্পিকের মতো ওষুধগুলো জিএলপি-১ (GLP-1) হরমোনকে নকল করে কাজ করে। ল্যাটারাল সেপ্টাম এলাকায় প্রচুর পরিমাণে জিএলপি-১ রিসেপ্টর রয়েছে, যা এই ওষুধগুলোর প্রভাবে সক্রিয় হয়ে ওঠে। ফলে মস্তিষ্ক পুরস্কার বা নেশাজাতীয় কিছুর প্রতি আগের মতো তীব্র তাড়না অনুভব করে না।
ইঁদুরের ওপর চালানো গবেষণায় দেখা গেছে, সরাসরি ল্যাটারাল সেপ্টামে জিএলপি-১ সক্রিয় করলে খাবার ও অ্যালকোহলের প্রতি আগ্রহ কমে যায়। এই নতুন তথ্যটি স্থূলতা ও আসক্তিজনিত ব্যাধি মোকাবিলায় চিকিৎসকদের নতুন কৌশল অবলম্বনে সহায়তা করবে বলে আশা করা হচ্ছে।