যুক্তরাষ্ট্রের প্রযুক্তি বিষয়ক সংবাদমাধ্যম সিনেট-এর বিশ্লেষণে মোবাইল অপারেটরদের কিস্তি সুবিধা ও অফারের ফাঁদ নিয়ে সতর্ক করা হয়েছে। প্রতিষ্ঠানটির লেখক নিকোল লি গ্রাহকদের পরামর্শ দিয়েছেন, নতুন ফোন কেনার আগে বিল ক্রেডিট এবং ইনস্টলমেন্ট প্ল্যানের খুঁটিনাটি যাচাই করে নিতে।
বর্তমানে স্মার্টফোনের দাম অনেক বেশি হওয়ায় বেশিরভাগ গ্রাহক মোবাইল অপারেটরদের সহজ কিস্তি বা ফিন্যান্সিং সুবিধার ওপর নির্ভর করেন। অপারেটররা প্রায়ই নতুন গ্রাহক টানতে আকর্ষণীয় সব অফার দিয়ে থাকে। অনেক ক্ষেত্রে ফোন বিনামূল্যে দেওয়ার প্রলোভনও দেখানো হয়। তবে এসব অফারের পেছনে লুকানো কিছু শর্ত বা নিয়ম থাকে যা না বুঝলে গ্রাহক আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হতে পারেন।
কিস্তি সুবিধা ও এর সীমাবদ্ধতা
অপারেটরদের ফিন্যান্সিং মানে হলো এককালীন পুরো টাকা পরিশোধ না করে কিস্তির মাধ্যমে ফোনের মূল্য পরিশোধ করা। এতে মাসিক খরচ সহজ মনে হলেও এটি গ্রাহককে দীর্ঘ দুই থেকে তিন বছরের জন্য ওই অপারেটরের সাথে চুক্তিবদ্ধ করে ফেলে। এই সময় অন্য অপারেটরে সুইচ করা বা ফোন পরিবর্তন করা বেশ কঠিন হয়ে পড়ে। এছাড়া ফোন লকড থাকায় আন্তর্জাতিক ভ্রমণের সময় ই-সিম ব্যবহারেও সমস্যার সৃষ্টি হয়।
বিল ক্রেডিট ও ট্রেড-ইন কেন বুঝবেন
ট্রেড-ইন ক্রেডিটের ক্ষেত্রে অনেক সময় পুরনো ফোন জমা দিয়ে নতুন ফোনে বড় অংকের ছাড়ের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়। তবে মনে রাখতে হবে, এই ক্রেডিট এককালীন পাওয়া যায় না। এটি সাধারণত ২৪ বা ৩৬ মাসের বিল ক্রেডিটের মাধ্যমে সমন্বয় করা হয়। অর্থাৎ, গ্রাহক প্রতি মাসে একটি নির্দিষ্ট পরিমাণ টাকা ছাড় পান। মাঝপথে যদি কেউ কিস্তি পরিশোধ করে চুক্তি শেষ করতে চান, তবে অনেক ক্ষেত্রে অবশিষ্ট ক্রেডিট বাতিল হয়ে যেতে পারে।
অন্য অপারেটরে যাওয়ার সতর্কতা
অনেকে এক অপারেটর থেকে অন্য অপারেটরে যাওয়ার সময় বর্তমান চুক্তির কিস্তি নিয়ে চিন্তিত থাকেন। যদিও টি-মোবাইল, এটিঅ্যান্ডটি ও ভেরাইজনের মতো বড় প্রতিষ্ঠানগুলো অনেক সময় গ্রাহকের আগের চুক্তির জরিমানা (ETF) বহন করার অফার দেয়, তবে এটিও শর্তসাপেক্ষ। এছাড়া এই অর্থ প্রদানের ক্ষেত্রেও বিল ক্রেডিট পদ্ধতি অনুসরণ করা হতে পারে। তাই যেকোনো অফার গ্রহণের আগে চুক্তির শর্তাবলি বিস্তারিত পড়ে নেওয়া জরুরি।