সৈয়দ বিশাল, পলাশবাড়ী (গাইবান্ধা)
হুন্ডির মাধ্যমে দেশি-বিদেশি মুদ্রা পাচার এবং ৯ কোটি ৩৫ লাখ টাকার বেশি অর্থ মানিলন্ডারিংয়ের অভিযোগে গাইবান্ধার পলাশবাড়ীর শ্রী শ্রী রাধা গোবিন্দ কালী মন্দিরের প্রতিষ্ঠাতা শ্রী হরিদাস চন্দ্র তরনীদাসকে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। মামলাটির তদন্ত করছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, সিআইডির আবেদনের ভিত্তিতে রাজধানীর উত্তরা পশ্চিম থানায় মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইন, ২০১২ (সংশোধিত ২০১৫)-এর ৪(২) ধারায় হরিদাস চন্দ্র তরনীদাসসহ অজ্ঞাতনামা আরও দুই থেকে তিনজনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়। গত রোববার (১২ জুলাই) গাইবান্ধা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে ঢাকায় নেওয়া হয় এবং বর্তমানে তিনি মিন্টো রোডে ডিবি কার্যালয়ে রয়েছেন।
আইনগত প্রক্রিয়া শেষে তাকে সিআইডির কাছে হস্তান্তরের প্রস্তুতি চলছে বলে জানা গেছে। মামলার এজাহার অনুযায়ী, ডিএসবি গাইবান্ধার তথ্য এবং সিআইডির নির্দেশনায় গত ২ জুলাই অভিযোগটির অনুসন্ধান শুরু হয়।
প্রাথমিক অনুসন্ধানে হরিদাসের পাঁচটি ব্যাংক হিসাব ও চারটি মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিস (এমএফএস) হিসাব বিশ্লেষণ করে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া গেছে। ২০২০ সালের ১ জানুয়ারি থেকে ২০২৬ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত লেনদেনের তথ্য নিম্নরূপ:
• মোট জমা: ৯ কোটি ৩৫ লাখ ৩২ হাজার ৪৫১ টাকা
• মোট উত্তোলন: ৯ কোটি ৩৫ লাখ ৬৫ হাজার ৫২৮ টাকা
এজাহারে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, বিভিন্ন ব্যক্তি ব্যবসাবহির্ভূতভাবে এসব হিসাবে নগদ অর্থ জমা দিয়েছেন। সিআইডির তথ্যমতে, মো. সুজন নামে এক ব্যক্তি ২০২৫ সালের বিভিন্ন সময়ে অভিযুক্তের একাধিক ব্যাংক হিসাবে ২ কোটি ২১ লাখ ৯৭ হাজার টাকা জমা দেন, যা প্রাথমিকভাবে হুন্ডির অর্থ বলে সন্দেহ করা হচ্ছে।
তদন্তকারী সংস্থার দাবি অনুযায়ী, অভিযুক্ত ও তার সহযোগীরা সংঘবদ্ধভাবে হুন্ডির মাধ্যমে অবৈধ অর্থ অর্জন করে তা স্থানান্তর, হস্তান্তর ও রূপান্তরের মাধ্যমে প্রকৃত উৎস গোপন করেছেন। একই সঙ্গে ওই অর্থ ব্যবহার করে নামে-বেনামে স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদ গড়ে তোলার প্রাথমিক তথ্য পাওয়া গেছে।
সিআইডি জানিয়েছে, তদন্ত চলমান রয়েছে এবং এর অগ্রগতির সঙ্গে মানিলন্ডারিংয়ের অর্থের পরিমাণ ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিষয়ে আরও তথ্য পাওয়া যেতে পারে। তদন্ত শেষে প্রাপ্ত তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।