বাংলাদেশের কক্সবাজার জেলার পেকুয়া পৌরসভার পূর্ব বিলাচূড়া এলাকায় বন্যায় বিধ্বস্ত বাড়িঘর মেরামত করে টিকে থাকার লড়াই করছেন স্থানীয়রা। ঘরবাড়ি হারিয়ে রোকসানা বেগম নামের এক নারী বলেন, অসুস্থ স্বামী ও সন্তানদের নিয়ে অনেক কষ্টে বানানো ঘরটি বন্যায় বসবাসের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। বন্যায় ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া এবং গৃহস্থালি সামগ্রী নষ্ট হওয়ার কারণে চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন স্থানীয় শত শত পরিবার।
পেকুয়া পৌরসভার বিলাচূড়া, ছিরাদিয়া ও মইয়াদিয়া এলাকায় প্রায় ৩৬৫টি বসতঘর মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দা আজবাহার বেগম জানান, ধারদেনা করে সংসার চালানো মানুষগুলো এখন নিঃস্ব হয়ে পড়েছেন। বন্যার পানিতে আসবাবপত্র ও প্রয়োজনীয় নথিপত্র নষ্ট হওয়ায় স্থানীয় শিক্ষার্থীদের পড়াশোনাও বন্ধ হয়ে গেছে। এখনো অনেক মানুষ কাদা ও আবর্জনা পরিষ্কার করে ঘর মেরামতের চেষ্টা করছেন।
পেকুয়া উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার কার্যালয়ের তথ্যমতে, এবারের বন্যায় উপজেলার সাতটি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভার প্রায় ৮৫ শতাংশ এলাকা প্লাবিত হয়। এতে ২৫১টি আধপাকা ঘর এবং প্রায় ৫০০টি কাঁচাঘর সম্পূর্ণ বিধ্বস্ত হয়েছে। এ ছাড়া এক হাজার ২৪৯টি কাঁচাঘর আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের তালিকা তৈরি করে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হয়েছে। পর্যায়ক্রমে এসব পরিবারকে সরকারি সহায়তা প্রদান করা হবে।