বাংলাদেশের ঢাকায় রাষ্ট্রপতির সর্বোচ্চ সাংবিধানিক পদটির জন্য বিএনপির মনোনীত প্রার্থী হিসেবে চূড়ান্ত করা হয়েছে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে। বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) দলীয় চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সঙ্গে জ্যেষ্ঠ নেতাদের বৈঠকের পর তার প্রার্থিতা নিশ্চিত করা হয় এবং নির্বাচন কমিশনে মনোনয়নপত্র জমা দেওয়া হয়েছে। সংসদে বিএনপির দুই-তৃতীয়াংশের বেশি সংখ্যাগরিষ্ঠতা থাকায় মির্জা ফখরুলের রাষ্ট্রপতি হওয়ার সম্ভাবনা অত্যন্ত জোরালো।
রাজনৈতিক জীবন ও পটভূমি
১৯৪৮ সালে ঠাকুরগাঁওয়ে জন্মগ্রহণ করা মির্জা ফখরুল ছাত্রজীবনে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সময় ছাত্র ইউনিয়নের রাজনীতিতে যুক্ত ছিলেন এবং ১৯৬৯ সালের গণঅভ্যুত্থানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। শিক্ষকতা ও সরকারি চাকরির অভিজ্ঞতা শেষে ১৯৮৬ সালে তিনি সরাসরি রাজনীতিতে সক্রিয় হন। ১৯৮৮ সালে ঠাকুরগাঁও পৌরসভার চেয়ারম্যান নির্বাচিত হওয়ার পর থেকে তিনি পর্যায়ক্রমে জেলা থেকে কেন্দ্রীয় রাজনীতিতে নিজের অবস্থান পোক্ত করেন। ২০০১ সালে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়ে তিনি কৃষি এবং বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন।
নেতৃত্বের চ্যালেঞ্জ ও পদত্যাগ
২০১১ সালে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিবের দায়িত্ব নেওয়ার পর ২০১৬ সালে তিনি দলের মহাসচিব হিসেবে পূর্ণ দায়িত্ব পান। খালেদা জিয়ার কারাবন্দিত্ব এবং তারেক রহমানের বিদেশে অবস্থানের সময় দীর্ঘ সময় দলকে সামনে থেকে নেতৃত্ব দিয়েছেন তিনি। রাষ্ট্রপতি পদে প্রার্থিতার জন্য তিনি মন্ত্রিসভা, মহাসচিব পদ ও জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্যপদ থেকে পদত্যাগ করেছেন।
নির্বাচনের সম্ভাবনা
বর্তমানে এলডিপি চেয়ারম্যান কর্নেল (অব.) অলি আহমদও প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। তবে সংসদে বিএনপির একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা থাকায় ২০ আগস্টের নির্বাচনে মির্জা ফখরুলের জয় অনেকটাই নিশ্চিত বলে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন। দলের কঠিন সময়ে দীর্ঘস্থায়ী নেতৃত্বের স্বীকৃতি হিসেবেই তাকে এই পদের জন্য মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে বলে দলীয় সূত্র জানিয়েছে।