যুক্তরাষ্ট্রের সিলিকন ভ্যালিভিত্তিক কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা গবেষণা সংস্থা ওপেনএআই লিনাক্সের জন্য তাদের চ্যাটজিপিটি ডেস্কটপ অ্যাপের প্রিভিউ সংস্করণ উন্মুক্ত করেছে। উবুন্টু, ডেবিয়ান এবং ফেডোরা অপারেটিং সিস্টেমের ব্যবহারকারীরা এখন এটি ব্যবহার করতে পারছেন। প্রযুক্তি বিশ্লেষক স্টিভেন ভন-নিকোলস এই অ্যাপটি ব্যবহারের পর জানিয়েছেন যে, এটি প্রত্যাশা পূরণে ব্যর্থ হয়েছে এবং তিনি ব্রাউজার সংস্করণটি ব্যবহার করতেই বেশি স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করছেন।
প্রযুক্তিগত সীমাবদ্ধতা
বিশ্লেষকের মতে, ওপেনএআই-এর এই ডেস্কটপ ক্লায়েন্টটি একটি ইলেকট্রন-ভিত্তিক প্রোগ্রাম। এটি ওপেন সোর্স নয়, বরং একটি মালিকানাধীন সফটওয়্যার। অ্যাপটি ব্যবহারের সময় তিনি উল্লেখযোগ্য কিছু সমস্যার সম্মুখীন হয়েছেন। এর মধ্যে অন্যতম হলো মেমরি লিকেজ বা র্যামের অতিরিক্ত ব্যবহার। এছাড়া, লিনাক্সের বিভিন্ন ডিস্ট্রিবিউশনে এটি ব্যবহারের সময় ডিসপ্লে সার্ভার বা ওয়েল্যান্ড (Wayland) সংক্রান্ত জটিলতাও দেখা দিয়েছে।
কেন গুরুত্বপূর্ণ
ডেভেলপারদের জন্য কোডেক্স (Codex) ও কাজের পরিবেশের সমন্বয় ঘটানোই এই অ্যাপটির মূল উদ্দেশ্য। সাধারণ চ্যাটজিপিটি ব্যবহারের পাশাপাশি এটি কর্মক্ষেত্রে ফাইল ও প্রজেক্ট ম্যানেজমেন্টের সুবিধা দেওয়ার কথা। তবে লিনাক্স ব্যবহারকারীদের জন্য এটি খুব একটা কার্যকর সমাধান হতে পারেনি। বিশেষ করে ডেভেলপারদের জন্য কোডিং সংক্রান্ত কাজগুলো ব্রাউজারের তুলনায় খুব একটা সহজতর হয়নি।
নিরাপত্তা সতর্কতা
অ্যাপটি ব্যবহারের ক্ষেত্রে ডেটা নিরাপত্তার ঝুঁকি নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে। এটি গুগলের বিভিন্ন সেবা যেমন জিমেইল বা ড্রাইভের সাথে যুক্ত হতে পারে, যার মাধ্যমে ব্যবহারকারীর ব্যক্তিগত তথ্যের গোপনীয়তা লঙ্ঘিত হওয়ার আশঙ্কা থাকে। তাই বিশ্লেষক পরামর্শ দিয়েছেন, যদি এই অ্যাপটি ব্যবহার করতেই হয়, তবে সেনসিটিভ বা গুরুত্বপূর্ণ ডেটা থেকে একে দূরে রাখা এবং মডেল প্রশিক্ষণের জন্য ডেটা শেয়ারিং বন্ধ রাখা উচিত।
পরবর্তী পদক্ষেপ
ওপেনএআই জানিয়েছে, লিনাক্স তাদের কাছে অন্যতম কাঙ্ক্ষিত প্ল্যাটফর্ম। তবে বর্তমান প্রিভিউ সংস্করণে ব্যবহারকারীদের যে অভিজ্ঞতা হয়েছে, তা উন্নত করতে কোম্পানিটিকে আরও অনেক কাজ করতে হবে। বিশেষ করে অ্যাপের পারফরম্যান্স বৃদ্ধি এবং র্যাম ব্যবহারের সীমাবদ্ধতা দূর করা জরুরি বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।