যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটনে হোয়াইট হাউস এক নতুন প্রতিবেদনে জানিয়েছে, বিদেশি রপ্তানিকারকরা শুল্ক এড়াতে তৃতীয় কোনো দেশের মাধ্যমে পণ্য যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করিয়ে প্রতারণা করছে। হোয়াইট হাউসের বাণিজ্য উপদেষ্টা পিটার নাভারো এই জালিয়াতিকে ‘গ্রেট ট্রান্সশিপমেন্ট স্ক্যাম’ হিসেবে অভিহিত করেছেন। এই অনৈতিক প্রক্রিয়ায় মার্কিন রাজস্ব বিভাগ বছরে প্রায় ১৯ থেকে ২৬ বিলিয়ন ডলার পর্যন্ত লোকসানের সম্মুখীন হচ্ছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চীন দীর্ঘ সময় ধরে এই ট্রান্সশিপমেন্ট বা পণ্য স্থানান্তর প্রক্রিয়ার মাধ্যমে মার্কিন শুল্ক ফাঁকি দিয়ে আসছে। ২০১৮ সালে চীনের ওপর আরোপিত ৩০১ নম্বর সেকশন শুল্কের পর থেকে বেইজিং তাদের পণ্য সরাসরি না পাঠিয়ে তৃতীয় কোনো দেশের মধ্য দিয়ে পাঠাতে শুরু করে। সেখানে সামান্য সংযোজন বা প্যাকেজিং পরিবর্তন করে পণ্যের মূল উৎস ভিন্ন দেশের বলে প্রচার করা হয়।
চীন ছাড়াও পানামা, মেক্সিকো, কলম্বিয়া, ব্রাজিল, আর্জেন্টিনা, চিলি, পেরু, কোস্টা রিকা এবং ডোমিনিকান রিপাবলিকসহ ৪০টিরও বেশি দেশকে এই ক্ষেত্রে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এমনকি ভারতের মতো দেশের ক্ষেত্রেও একই ধরনের শুল্ক ফাঁকির ঝুঁকির কথা উল্লেখ করেছেন পিটার নাভারো।
এই জালিয়াতি রোধে মার্কিন কাস্টমস এবং বর্ডার প্রোটেকশন কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই প্রযুক্তি ব্যবহার শুরু করেছে। যারা পণ্যের উৎস গোপন করে শুল্ক ফাঁকির চেষ্টা করবে, তাদের বিরুদ্ধে প্রায় এক বছর পর্যন্ত পূর্ববর্তী শুল্ক হার কার্যকর করার মতো কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে। চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের আসন্ন ওয়াশিংটন সফরের আগেই হোয়াইট হাউসের এই প্রতিবেদন প্রকাশ করা হলো।