যুক্তরাজ্যের ম্যানচেস্টারে ওল্ড ট্র্যাফোর্ডে আয়োজিত প্রিমিয়ার লিগের ম্যাচে মাঠের ৭৪ হাজারেরও বেশি দর্শক ভিএআর নিয়ে সৃষ্ট বিতর্কের সময় পুরোপুরি অন্ধকারে ছিলেন। ম্যানচেস্টার সিটির আর্লিং হালান্ডের গোলটির সময় রেফারি মাইকেল অলিভার যখন বাঁশি বাজান, তখন এনজো ফার্নান্দেজকে ঘিরে তৈরি হওয়া অফসাইডের পরিস্থিতি সম্পর্কে মাঠে উপস্থিত দর্শকদের কোনো ধারণা ছিল না। অথচ টেলিভিশন দর্শকরা সহজেই জানতে পেরেছিলেন কেন এই গোলটি বৈধ ছিল।
শুধু ম্যানচেস্টার সিটি নয়, ইপসউইচ টাউনের বিপক্ষে ক্রিস্টাল প্যালেসের ম্যাচে অ্যাক্সেল দিসাসির লাল কার্ডের সিদ্ধান্তের সময়ও একই চিত্র দেখা গেছে। ভিএআর যাচাইয়ের জন্য দীর্ঘ এক মিনিট অপেক্ষা করতে হয়েছে, কিন্তু মাঠে উপস্থিত ভক্তরা তা বুঝতে পারেননি। প্রায় এক দশক ধরে ভিএআর প্রযুক্তি ব্যবহার হলেও স্টেডিয়ামে উপস্থিত দর্শকদের এ ক্ষেত্রে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে না বলে অভিযোগ উঠেছে।
কেন সরাসরি প্রচার নয়
প্রিমিয়ার লিগের রেফারি প্রধান হাওয়ার্ড ওয়েব স্বচ্ছতা বৃদ্ধির প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। তিনি মেজর লিগ সকারের (এমএলএস) আদলে ভিএআর অডিও প্রকাশের উদ্যোগ নিলেও সরাসরি ম্যাচ চলাকালীন অডিও প্রচারের ক্ষেত্রে কোনো ঐকমত্য তৈরি হয়নি। ফুটবলের আইনপ্রণেতা সংস্থা ইফাব এবং ফিফার মতে, এটি মাঠের কর্মকর্তাদের ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করবে এবং সিদ্ধান্তের মান নিয়ে প্রশ্ন তুলতে পারে।
ইফাব-এর প্রধান নির্বাহী লুকাস ব্রুড জানিয়েছেন, সরাসরি অডিও প্রচার করলে মাঠের পরিস্থিতি বিশৃঙ্খল হয়ে পড়তে পারে। এছাড়া অনেক ক্ষেত্রেই সিদ্ধান্তগুলো সাবজেক্টিভ বা ব্যাখ্যাসাপেক্ষ হওয়ায় তা দর্শকদের কাছে বিভ্রান্তিকর হতে পারে বলে মনে করা হয়।
অন্যান্য লিগের অবস্থান
স্প্যানিশ লা লিগা ম্যাচ শেষে ভিএআর অডিও ও ভিডিও প্রচার করে। অন্যদিকে ইতালির সেরি আ তাদের অডিও প্রচারের কার্যক্রম বন্ধ করে দিয়েছে। প্রিমিয়ার লিগ বর্তমানে মাঠের স্ক্রিনে সরাসরি সিদ্ধান্ত জানানোর ব্যবস্থা করেছে, যা দর্শকদের জন্য কিছুটা স্বস্তিদায়ক। তবে সরাসরি অডিও সম্প্রচারের ক্ষেত্রে এখনো অনেক দূর যেতে হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
ক্রিকেটের ডিআরএস পদ্ধতির মতো ভিএআর অডিও প্রচারে প্রযুক্তিগত কিছু চ্যালেঞ্জ রয়েছে। তবুও ফুটবল ভক্তদের দীর্ঘদিনের দাবি—সিদ্ধান্ত নেওয়ার সময়কার আলোচনার স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার জন্য রেফারি এবং ভিএআর কর্মকর্তাদের কথোপকথন সরাসরি শোনার সুযোগ তৈরি করা প্রয়োজন।