যুক্তরাষ্ট্রের মাউইতে অনুষ্ঠিত বার্ষিক আমোস (AMOS) সম্মেলনে মহাকাশ ট্রাফিক সমন্বয় ব্যবস্থা বা ট্রাফিক কোঅর্ডিনেশন সিস্টেম ফর স্পেস (TraCSS) নিয়ে তীব্র বিতর্ক ও অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। প্রায় ২০০ মিলিয়ন ডলার ব্যয় এবং এক দশক অতিক্রান্ত হওয়ার পরও এই প্রকল্পটি কেন পূর্ণাঙ্গ রূপ পায়নি এবং এর ভবিষ্যৎ কী হওয়া উচিত, তা নিয়ে মার্কিন বাণিজ্য মন্ত্রণালয়, প্রতিরক্ষা বিভাগ ও সংশ্লিষ্ট শিল্প খাতের প্রতিনিধিদের মধ্যে মতভেদ দেখা দিয়েছে।
প্রতিরক্ষা বিভাগ, স্পেস ফোর্স এবং ইউএস স্পেস কমান্ডের জন্য এখন বড় প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে, যদি এই ট্রাফিক সমন্বয় প্রকল্পটি বন্ধ হয়ে যায়, তবে এর বিকল্প পরিকল্পনা বা ‘প্ল্যান বি’ কী হবে।
২০১৮ সালে তৎকালীন ট্রাম্প প্রশাসনের স্পেস পলিসি ডিরেক্টিভ-৩ (SPD-3) অনুযায়ী এই প্রকল্পের মূল লক্ষ্য ছিল মহাকাশ পর্যবেক্ষণে বাণিজ্যিক খাতের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা এবং পেন্টাগনকে মহাকাশ ট্রাফিক ট্র্যাক করার দায়িত্ব থেকে মুক্ত করা। তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আট বছর পরও সরকার সেই রূপরেখা অনুযায়ী কোনো কাঠামো তৈরি করতে পারেনি। বর্তমান ব্যবস্থাটি কেবল একটি পাইলট প্রকল্প হিসেবে রয়ে গেছে, যা বাণিজ্যিক তথ্য ও প্রতিরক্ষা বিভাগের তথ্যের মধ্যে সমন্বয় করতে সক্ষম নয়।
প্রকল্পটির ভবিষ্যৎ নিয়ে মূলত তিনটি পথ নিয়ে আলোচনা চলছে। প্রথমত, প্রকল্পটি পুরোপুরি বাতিল করে মহাকাশ নিরাপত্তাকে সম্পূর্ণ বেসরকারি খাতের ওপর ছেড়ে দেওয়া। দ্বিতীয়ত, প্রকল্পটি বাতিল করে পুনরায় পেন্টাগনের ১৮তম স্পেস ডিফেন্স স্কোয়াড্রনের ওপর এই দায়িত্ব ন্যস্ত করা। তৃতীয়ত, একটি সরকারি-বেসরকারি অংশীদারিত্বের মাধ্যমে নতুন কোনো কাঠামো তৈরি করা। তবে প্রতিটি পথেরই নিজস্ব ঝুঁকি ও সীমাবদ্ধতা রয়েছে।
শিল্প খাতের প্রতিনিধিরা উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন যে, প্রকল্পটি এখনকার মতোই যদি অর্থায়নের অভাবে খুঁড়িয়ে চলতে থাকে, তবে মহাকাশে ক্রমবর্ধমান উপগ্রহ ও ধ্বংসাবশেষের কারণে সংঘর্ষের ঝুঁকি বাড়বে। বাণিজ্য মন্ত্রণালয় এ বিষয়ে সরাসরি কোনো মন্তব্য না করলেও, মহাকাশ পর্যবেক্ষকরা মনে করছেন, চলমান এই অনিশ্চয়তা পুরো মহাকাশ নিরাপত্তা ব্যবস্থাকেই হুমকির মুখে ফেলছে।