বাংলাদেশের চট্টগ্রামের হালিশহরে জুয়া মামলায় ফাঁসানোর ভয় দেখিয়ে এক ব্যবসায়ী ও তার বন্ধুর কাছ থেকে ক্রিপ্টোকারেন্সিসহ ১৮ লাখ টাকা আদায়ের অভিযোগে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের (সিএমপি) দুই এএসআইকে ক্লোজড করা হয়েছে। সিএমপি কমিশনার হাসান মো. শওকত আলী বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। ভুক্তভোগীদের অভিযোগের ভিত্তিতে এই শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে, যা পুলিশের অভ্যন্তরীণ স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার জায়গা থেকে গুরুত্বপূর্ণ।
ঘটনার বিবরণ
অভিযুক্ত দুই পুলিশ কর্মকর্তা হলেন সিএমপির ল’ফুল ইন্টারসেপ্টেড সেলের (এলআইসি) এএসআই বাছির উদ্দিন এবং সিএমপি রেশন স্টোরের এএসআই সুফিয়ান। এছাড়া এলআইসির সহকারী কমিশনার (এসি) শরিফুল আলম সুজনকে দায়িত্ব থেকে প্রত্যাহার করে দামপাড়া পুলিশ সদর দপ্তরে সংযুক্ত করা হয়েছে।
গত ৪ সেপ্টেম্বর সকালে এসি শরিফুল আলমের নেতৃত্বে সাদা পোশাকের পুলিশ হালিশহরের কে ব্লকের এক বাসা থেকে ব্যবসায়ী আখতারুজ্জামান শাকিল ও তার বন্ধু মনসুর আলীকে তুলে নেয়। ভুক্তভোগীরা জানান, তাদের এলআইসি কার্যালয়ে নিয়ে মোবাইল ফোন জব্দ করে ব্যক্তিগত তথ্য ও ছবি হাতিয়ে নেওয়া হয়। এরপর ছবি ফাঁস ও জুয়া মামলায় ফাঁসানোর ভয় দেখিয়ে তাদের কাছ থেকে তিন দফায় ১০ হাজার ৮৬৪ মার্কিন ডলার সমমূল্যের প্রায় ১৩ লাখ ২৫ হাজার টাকা বাইন্যান্স অ্যাকাউন্ট থেকে স্থানান্তর করা হয়।
অতিরিক্ত অর্থ দাবি
ভুক্তভোগী শাকিল আরও অভিযোগ করেন, একই দিন রাতে তাকে ব্যাংকের বুথে নিয়ে আরও চার লাখ টাকা তুলতে বাধ্য করা হয়। এছাড়া মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে আরও ৮০ হাজার টাকা হাতিয়ে নেওয়া হয়। সাদা কাগজে স্বাক্ষর ও ভিডিও ধারণ করার পর মধ্যরাতে তাদের ছেড়ে দেওয়া হয়। ৫ সেপ্টেম্বর রাতে ভুক্তভোগীদের গাড়ি ফেরত দিয়ে পুলিশ আরও পাঁচ লাখ টাকা দাবি করে। পুরো ঘটনাটি তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে বলে জানিয়েছে সিএমপি।