ভারতের বিভিন্ন অঞ্চলের ৬০ বছর বা তার বেশি বয়সী ব্যক্তিদের ওপর গবেষণা চালিয়ে মস্তিষ্কের এক নতুন সুরক্ষাকবচের সন্ধান পেয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব সাউদার্ন ক্যালিফোর্নিয়ার (ইউএসসি) কেক স্কুল অব মেডিসিনের বিজ্ঞানীরা। গবেষণায় দেখা গেছে, বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে মস্তিষ্কের ধূসর পদার্থ বা গ্রে ম্যাটার কমে গেলেও এর ঠিক নিচে থাকা সূক্ষ্ম স্নায়ুসংযোগগুলো মানুষের বুদ্ধিবৃত্তিক সক্ষমতা সচল রাখতে সহায়তা করে।
গবেষণা অনুযায়ী, ধূসর পদার্থের ঠিক নিচে থাকা এই স্নায়ুসংযোগ বা সুপারফিসিয়াল হোয়াইট ম্যাটার মস্তিষ্কের কাছের অঞ্চলগুলোর মধ্যে তথ্যের আদান-প্রদান সহজতর করে। গবেষক ড. ইংজু লিউ জানান, ধূসর পদার্থ যেখানে তথ্য প্রক্রিয়াজাত করে, সেখানে এই স্নায়ুসংযোগগুলো যোগাযোগের পথ হিসেবে কাজ করে। ধূসর পদার্থের ক্ষয় হলেও এই পথগুলো যদি সুস্থ থাকে, তবে তা মানুষের ভাষাগত দক্ষতা ও স্মৃতিশক্তিকে অনেকাংশে রক্ষা করতে পারে।
ভারতের ৪৫৯ জন ব্যক্তির ওপর এমআরআই স্ক্যান এবং জ্ঞানীয় পরীক্ষার মাধ্যমে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে। বিশেষ করে গ্রামীণ জনপদ এবং তুলনামূলক কম শিক্ষিত মানুষের মধ্যে এই স্নায়ুসংযোগ ও ভাষাগত দক্ষতার সম্পর্কটি বেশ জোরালোভাবে ফুটে উঠেছে। গবেষক দল মনে করছেন, যাদের মস্তিষ্কের এই অভ্যন্তরীণ যোগাযোগ ব্যবস্থা উন্নত, তারা ধূসর পদার্থের ক্ষয়জনিত সমস্যার মধ্যেও তুলনামূলক ভালো বুদ্ধিবৃত্তিক কার্যক্ষমতা বজায় রাখতে পারেন।
গবেষক দলের প্রধান ড. লিওন আক্সম্যান জানান, দুই ব্যক্তির ধূসর পদার্থের ক্ষয় একই মাত্রার হলেও তাদের মানসিক সক্ষমতায় পার্থক্য হওয়ার মূল কারণ হতে পারে এই অভ্যন্তরীণ স্নায়ুসংযোগের সুস্থতা। তবে বয়সের সঙ্গে এই পরিবর্তনগুলো কীভাবে শুরু হয় এবং তা দীর্ঘমেয়াদে কেমন প্রভাব ফেলে, তা জানতে ভবিষ্যতে আরও গবেষণার প্রয়োজন রয়েছে। এই গবেষণাটি আলঝেইমার্স অ্যান্ড ডিমেনশিয়া জার্নালে প্রকাশিত হয়েছে।