কানাডার টরন্টো শহরে বিশ্বের ১০০টিরও বেশি শীর্ষ বিনিয়োগকারী ও ব্যবসায়িক নেতাদের নিয়ে দুই দিনব্যাপী এক বিশেষ সম্মেলনের আয়োজন করেছেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি। যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে দীর্ঘদিনের বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার প্রেক্ষাপটে দেশটির অর্থনীতিকে শক্তিশালী ও বৈচিত্র্যময় করার লক্ষ্যে তিনি এই উদ্যোগ নিয়েছেন। যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডার মধ্যে চলমান শুল্ক আরোপ ও উত্তপ্ত রাজনৈতিক পরিস্থিতির জেরে কানাডার অর্থনীতিতে বড় ধরনের ঝুঁকির সৃষ্টি হয়েছে, যা থেকে উত্তরণের উপায় খুঁজছেন প্রধানমন্ত্রী কার্নি।
সম্মেলনে নরওয়ে ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের মতো দেশের সার্বভৌম সম্পদ তহবিলের প্রতিনিধি এবং ব্ল্যাকরক ও ব্ল্যাকস্টোনের মতো বড় আর্থিক প্রতিষ্ঠানের প্রধানরা অংশ নিচ্ছেন। কার্নি ব্যক্তিগত উদ্যোগে তাদের আমন্ত্রণ জানিয়েছেন। এই সম্মেলনের মাধ্যমে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, প্রতিরক্ষা, পরিবহন ও অবকাঠামো খাতে বড় আকারের বিদেশি বিনিয়োগ টানার প্রত্যাশা করছে কানাডা সরকার। কার্নির লক্ষ্য হলো যুক্তরাষ্ট্রের ওপর অতি-নির্ভরশীলতা কমিয়ে কানাডার অর্থনীতিকে আরও স্বাধীন ও স্থিতিশীল করে তোলা।
তবে বিনিয়োগকারীদের মন জয় করা খুব একটা সহজ হবে না বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। কানাডায় বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পের অনুমোদন প্রক্রিয়ার দীর্ঘসূত্রতা এবং রাজনৈতিক জটিলতা বড় বাধা হিসেবে চিহ্নিত করেছেন কানাডা পেনশন প্ল্যান ইনভেস্টমেন্ট বোর্ডের বিশ্লেষকরা। এছাড়া, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্যের ওপর কানাডার জিডিপির ২০ শতাংশ নির্ভরশীল হওয়ায়, এই সম্পর্ক পুরোপুরি এড়িয়ে নতুন পথ তৈরি করাকে বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখছেন অর্থনীতিবিদরা।
প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি অবশ্য আশাবাদী যে, তার ব্যক্তিগত নেটওয়ার্ক ও পূর্বের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের অভিজ্ঞতার সুবাদে বিনিয়োগকারীরা কানাডার জ্বালানি ও প্রাকৃতিক সম্পদের সম্ভাবনার দিকে নজর দেবেন। তবে কানাডার অভ্যন্তরে এই নীতি নিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া রয়েছে। কার্নির এই কৌশলের সমর্থক যেমন রয়েছে, তেমনি পরিবেশ রক্ষা ও রাষ্ট্রীয় সম্পদের বেসরকারিকরণের আশঙ্কায় টরন্টোয় বিভিন্ন প্রতিবাদ কর্মসূচিও পালিত হচ্ছে।