বাংলাদেশের রাজধানীর মোহাম্মদপুরে জুলাই গণআন্দোলন চলাকালে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের গুলিবর্ষণে সংঘটিত হত্যাকাণ্ডের বর্ণনা দিয়েছেন প্রত্যক্ষদর্শী মামুন ফরাজি। সোমবার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১-এর বিচারক মো. মোহিতুল হক এনাম চৌধুরীর বেঞ্চে ২৮ আসামির বিরুদ্ধে মামলার অষ্টম সাক্ষী হিসেবে তিনি এই জবানবন্দি দেন। এই সাক্ষ্য তৎকালীন সরকারের নির্দেশনায় পরিচালিত সহিংসতা ও সাধারণ মানুষের ওপর হামলার ভয়াবহতা তুলে ধরতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।
মামুন ফরাজি ট্রাইব্যুনালকে জানান, ১৮ ও ১৯ জুলাই মোহাম্মদপুরের আল্লাহ করিম মসজিদ ও বাঁশবাড়ি এলাকায় পুলিশ, র্যাব, আনসার এবং আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গসংগঠনের সশস্ত্র কর্মীরা আন্দোলনকারীদের ওপর নির্বিচারে গুলি চালায়। তিনি উল্লেখ করেন, ওরিয়েন্টাল কোভান ভবনের গেট থেকে রাজু নামে এক তরুণকে টেনে নিয়ে গুলি করা হয়। গুলিবিদ্ধ রাজুকে জননী কুরিয়ার সার্ভিসের সামনে আনা হলে দেখা যায়, তার পায়ে ও পেটে মারাত্মক জখম হয়েছে এবং পেট থেকে রক্তমাখা ভাত বেরিয়ে আসছিল। হাসপাতালে নেওয়ার পর রাজু মারা যান। সাক্ষী জানান, ওই আনসার সদস্যের নাম ওমর ফারুক।
সাক্ষী আরও বলেন, ১৯ জুলাই বছিলা তিন রাস্তার মোড়ে হেলিকপ্টার ব্যবহার করে আন্দোলনকারীদের ওপর গুলিবর্ষণ করা হয়। তিনি জসিম নামে আরেক আন্দোলনকারীর করুণ পরিণতির কথা উল্লেখ করেন, যার হাত ও বুকে গুলি লেগেছিল। পরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় জসিম মারা যান।
জবানবন্দিতে মামুন তৎকালীন সরকার প্রধান শেখ হাসিনা, ফজলে নূর তাপস ও জাহাঙ্গীর কবির নানকের নির্দেশনায় পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের এই হামলার জন্য দায়ী করেন। তিনি অপরাধীদের সর্বোচ্চ শাস্তির দাবি জানান। মামলার ২৮ আসামির মধ্যে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের মোহাম্মদপুর শাখার সভাপতি নাঈমুল হাসান রাসেল, সাজ্জাদ হোসেন, আনসার সদস্য ওমর ফারুক ও যুবলীগ কর্মী ফজলে রাব্বিসহ চারজন বর্তমানে গ্রেফতার আছেন।