ইরানের মেহর নিউজ এজেন্সি (এমএনএ) দাবি করেছে, ইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধের সাত মাস পার হলেও কোনো সুস্পষ্ট সাফল্য না পাওয়ায় মার্কিন প্রশাসন ও গণমাধ্যমগুলো এখন ‘বিজয়ের গল্প’ তৈরির চেষ্টা করছে। মঙ্গলবার প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে সংস্থাটি জানিয়েছে, যুদ্ধের ময়দানে কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্য অর্জনে ব্যর্থ হয়ে ওয়াশিংটন এখন একটি সফল উদ্ধার অভিযানকে যুদ্ধের বড় বিজয় হিসেবে উপস্থাপনের মাধ্যমে জনমত পরিবর্তনের কৌশল নিয়েছে।
প্রতিবেদনটিতে বলা হয়েছে, ইরানের ভূখণ্ডে ভূপাতিত একটি মার্কিন যুদ্ধবিমানের পাইলটকে উদ্ধার করার ঘটনাকে কেন্দ্র করে ওয়াশিংটন হলিউড ধাঁচের প্রচারণায় নেমেছে। সামরিক বাহিনী, বিশেষ অভিযান এবং আহত পাইলটকে ফিরিয়ে আনার এই নাটকীয়তাকে তারা যুদ্ধের মূল সাফল্য হিসেবে প্রচার করছে। এমএনএর বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, যুদ্ধবিমানটি ভূপাতিত হওয়ার বিষয়টি আড়াল করে কেবল পাইলট উদ্ধারের ওপর আলোকপাত করা হচ্ছে, যা মূলত যুদ্ধের রাজনৈতিক ব্যর্থতাকে ঢাকার একটি প্রচেষ্টা।
উদ্ধার অভিযানের বর্ণনা নিয়ে প্রশ্ন তুলে মেহর জানিয়েছে, পাইলট গুরুতর আহত হওয়া সত্ত্বেও কীভাবে দুর্ঘটনার পর সাত হাজার ফুট উচ্চতার পাহাড়ি এলাকায় পৌঁছালেন, তার কোনো যৌক্তিক সামরিক ব্যাখ্যা নেই। তবে অভিযানটি জটিল এবং সফল ছিল বলে স্বীকার করলেও, মেহর মনে করছে একটি সামরিক অভিযানের সাফল্য আর পুরো যুদ্ধের বিজয় এক বিষয় নয়।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মার্কিন প্রশাসনের জন্য এই যুদ্ধের একটি ‘বিজয়ী’ ভাবমূর্তি তৈরি করা রাজনৈতিকভাবে জরুরি হয়ে পড়েছে। কুইনিপিয়াক বিশ্ববিদ্যালয়ের জরিপ অনুযায়ী, ৬০ শতাংশ মার্কিন নাগরিক মনে করেন এই যুদ্ধে ব্যয় করা অর্থ সার্থক হয়নি। এছাড়া সিবিএস ও ইউগভের তথ্যমতে, ৬৯ শতাংশ মার্কিনি যুদ্ধটিকে ব্যয়সাপেক্ষ বলে মনে করছেন। এসব জনমত ও রাজনৈতিক চাপের কারণেই ওয়াশিংটন এখন কৌশলগত সাফল্যের চেয়ে ‘বিজয়ের ছবি’ তৈরির ওপর বেশি মনোযোগ দিচ্ছে বলে দাবি করা হয়েছে।
যদিও মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তর দাবি করেছে যে, গণমাধ্যমে সামরিক সদস্যদের অংশগ্রহণ ছিল সম্পূর্ণ স্বেচ্ছামূলক। কিন্তু মেহর নিউজ এজেন্সির মতে, যুদ্ধের মূল কৌশলগত লক্ষ্য অর্জিত হয়েছে কি না, তা আড়ালে পড়ে যাচ্ছে পাইলট উদ্ধারের এই নাটকীয় প্রচারণার কারণে।