যুক্তরাষ্ট্রের নিউ ইয়র্ক জিনোম সেন্টারের বিজ্ঞানীরা মানুষের মস্তিষ্কে মধ্যবয়সে ঘটা এক বড় ধরনের জৈবিক রূপান্তরের তথ্য উদঘাটন করেছেন। এই গবেষণাটি সায়েন্স জার্নালে প্রকাশিত হয়েছে, যা আলঝেইমারসহ বিভিন্ন স্নায়বিক রোগের ঝুঁকি কেন বয়সের সাথে বৃদ্ধি পায়, তা বোঝার ক্ষেত্রে নতুন পথ খুলে দিয়েছে।
গবেষণা অনুযায়ী, মানুষের মস্তিষ্কের জিনোম নিয়ন্ত্রণের পদ্ধতিতে ৫০ থেকে ৭৫ বছর বয়সের মধ্যে বড় ধরনের পরিবর্তন আসে। মস্তিষ্কের স্মৃতি ও শেখার কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত হিপোক্যাম্পাসের একক কোষ বিশ্লেষণের মাধ্যমে বিজ্ঞানীরা এই চিত্র পেয়েছেন।
মস্তিষ্কের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থায় বড় পরিবর্তন
গবেষণায় দেখা গেছে, মস্তিষ্কের রোগ প্রতিরোধক বা ইমিউন কোষ হিসেবে পরিচিত মাইক্রোগ্লিয়া ৫০ থেকে ৭৫ বছর বয়সের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হারে হ্রাস পায়। ভ্রূণ অবস্থায় তৈরি হওয়া এই কোষগুলোর জায়গায় রক্তে থাকা ইমিউন কোষের মতো বৈশিষ্ট্যসম্পন্ন নতুন কোষ চলে আসে। এসব নতুন কোষের মধ্যে প্রদাহজনিত লক্ষণ বেশি থাকে, যা বয়স্ক মস্তিষ্কে দীর্ঘস্থায়ী প্রদাহ তৈরিতে ভূমিকা রাখতে পারে। এছাড়া মস্তিষ্কের রক্তনালীর সুরক্ষা প্রাচীর (ব্লাড-ব্রেইন ব্যারিয়ার) বজায় রাখা কোষগুলোর কার্যকারিতাও এ সময় কমে যায়।
নিউ ইয়র্ক জিনোম সেন্টারের সিইও এবং গবেষণার অন্যতম লেখক ড. বিং রেন জানান, মাইক্রোগ্লিয়া মস্তিষ্ককে সুস্থ রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। এই কোষগুলো যখন তাদের দায়িত্ব সঠিকভাবে পালন করতে ব্যর্থ হয়, তখন ক্ষতিকর উপাদান জমা হয়ে প্রদাহ সৃষ্টি করে, যা স্নায়বিক রোগের কারণ হতে পারে।
জিনোমের ত্রিমাত্রিক গঠনের অবনতি
মস্তিষ্কের জিনোমের ত্রিমাত্রিক গঠনেও বয়সের সাথে অবনতি দেখা গেছে। কোষের ভেতরে ডিএনএ একটি সুশৃঙ্খল কাঠামোর মাধ্যমে জিনের কার্যক্রম নিয়ন্ত্রণ করে। বয়সের সাথে এই কাঠামো অগোছালো হয়ে পড়ে, যা মস্তিষ্কের বার্ধক্যের একটি মৌলিক বৈশিষ্ট্য হতে পারে।
ক্যালিফোর্নিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক এবং এই গবেষণার সহ-লেখক ড. শিয়াংমিন জু বলেন, বার্ধক্য কেবল কোনো সরল পতন নয়। এটি ইমিউন, ভাস্কুলার এবং স্নায়বিক সিস্টেমের একটি সমন্বিত পরিবর্তনের প্রক্রিয়া। এই নতুন তথ্য ভবিষ্যতে মস্তিষ্কের কার্যক্ষমতা বজায় রাখার মতো চিকিৎসা পদ্ধতি উদ্ভাবনে সহায়তা করবে। এই গবেষণাটি ন্যাশনাল ইনস্টিটিউটস অফ হেলথের ৪ডি নিউক্লিওম কর্মসূচির আওতায় এক দশকের দীর্ঘ প্রচেষ্টার অংশ।