যুক্তরাষ্ট্রের মেরিল্যান্ডের ন্যাশনাল হারবারে আয়োজিত এয়ার অ্যান্ড স্পেস ফোর্সেস কনফারেন্সে অ্যান্ডুরিল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ২০২৭ সালের প্রতিরক্ষা বাজেট পাস না হওয়া পর্যন্ত এফকিউ-৪৪ ফিউরি ড্রোন উৎপাদন কার্যক্রম শুরু করা সম্ভব হবে না। প্রতিষ্ঠানটির কৌশলগত কার্যক্রমের ভাইস প্রেসিডেন্ট এরিন সিম্পসন জানান, যদিও কোম্পানি নিজস্ব অর্থায়নে উৎপাদন সুবিধা তৈরি করেছে, তবে পূর্ণাঙ্গ উৎপাদনের জন্য কংগ্রেসের অনুমোদিত বাজেটের প্রয়োজন।
এয়ারফোর্সের সাথে চুক্তিবদ্ধ হয়ে অ্যান্ডুরিল ও জেনারেল অ্যাটমিকস যৌথভাবে কোলাবোরেটিভ কমব্যাট এয়ারক্রাফট (সিসিএ) তৈরির কাজ করছে। সিম্পসন বলেন, কোম্পানিটি তার সক্ষমতার সর্বোচ্চ বিনিয়োগ করেছে, কিন্তু সরকারি প্রকিউরমেন্ট ডলার ছাড়া বড় আকারে উৎপাদন এগিয়ে নেওয়া সম্ভব নয়।
বর্তমানে মার্কিন কংগ্রেসের একটি কন্টিনিউয়িং রেজোলিউশন (সিআর) বলবৎ রয়েছে, যা অক্টোবরের নতুন অর্থবছর থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত সরকারি ব্যয় নিয়ন্ত্রণ করছে। যদি ডিসেম্বরের মধ্যে বাজেট পাস না হয় এবং বিকল্প অর্থায়ন ব্যবস্থা দীর্ঘায়িত হয়, তবে সিসিএ উৎপাদন শুরুর জন্য বিশেষ ব্যতিক্রম বা অর্থায়নের ছাড় পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে বলে সিম্পসন উল্লেখ করেন।
অ্যান্ডুরিলের ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট জেসন লেভিন জানান, ওহাইওতে তাদের আরসেনাল-১ কারখানায় বছরে ১৫০টি ফিউরি ড্রোন উৎপাদনের সক্ষমতা রয়েছে। বর্তমানে তারা প্রোটোটাইপ তৈরির কাজ চালিয়ে যাচ্ছে এবং বিমান বাহিনীর এক্সপেরিমেন্টাল অপারেশনস ইউনিটের সাথে ড্রোনটির বিভিন্ন সক্ষমতা যাচাইয়ের পরীক্ষা করছে।
ইতোমধ্যেই এফ-৩৫ ফাইটার জেটের সাথে এফকিউ-৪৪ ফিউরি ড্রোন গঠনের পরীক্ষা সফল হয়েছে। এছাড়া আকাশ থেকে আকাশে নিক্ষেপযোগ্য ক্ষেপণাস্ত্র ও অন্যান্য যুদ্ধাস্ত্র মোতায়েনের ক্ষেত্রেও ড্রোনটির কার্যকারিতা প্রমাণিত হয়েছে। সিম্পসন ও লেভিন উভয়ই জানিয়েছেন, বিমান বাহিনীর প্রয়োজনে যেকোনো সময় ড্রোন সরবরাহ করতে তারা প্রস্তুত, শুধু বাজেটের সবুজ সংকেত প্রয়োজন।