ভারতের নয়াদিল্লিতে বসে দেশটির স্বাধীনতার শততম বার্ষিকীকে সামনে রেখে ২০৪৭ সালের মধ্যে রাষ্ট্রটিকে একটি ‘বিকশিত ভারত’ বা উন্নত রাষ্ট্রে রূপান্তরের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। ভারতের সাবেক রাষ্ট্রদূত ড. মোহন কুমার এই লক্ষ্য অর্জনের জন্য প্রয়োজনীয় অর্থনৈতিক ও সামাজিক সংস্কারের ওপর গুরুত্ব আরোপ করেছেন। উন্নত দেশ হিসেবে নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করতে ভারতকে একটি দীর্ঘমেয়াদী ও সুসংগঠিত পরিকল্পনার মধ্য দিয়ে যাওয়ার প্রয়োজনীয়তার কথা উল্লেখ করেছেন তিনি।
১০ ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতি
বর্তমানে ভারতের জিডিপি প্রায় ৪ দশমিক ৫ ট্রিলিয়ন মার্কিন ডলার, যা প্রায় দেড় শ কোটি মানুষের জন্য যথেষ্ট নয়। উন্নত রাষ্ট্র হওয়ার পথে জিডিপিকে ১০ ট্রিলিয়ন ডলারে উন্নীত করার তাগিদ দিয়েছেন লেখক। এর জন্য আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে ভারতের অংশীদারত্ব দ্বিগুণ করা এবং বৈশ্বিক রপ্তানিতে বর্তমান ২ শতাংশের অবদানকে ১০ শতাংশে নিয়ে আসার কথা বলেছেন তিনি। এছাড়া সরাসরি বৈদেশিক বিনিয়োগ বৃদ্ধির জন্য ভূমি, শ্রম, কৃষি ও অবকাঠামো খাতে মৌলিক অর্থনৈতিক সংস্কারের প্রয়োজন রয়েছে।
অন্তর্ভুক্তিমূলক প্রবৃদ্ধি ও কর্মসংস্থান
অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি কেবল সংখ্যার মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে তা সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে। যুবসমাজের জন্য কর্মসংস্থান সৃষ্টি করা বর্তমানে জাতীয় মূলমন্ত্র হওয়া উচিত। চাকরিপ্রার্থী হওয়ার পরিবর্তে তরুণদের উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে তোলার পরিবেশ তৈরিতে সরকার ও বেসরকারি খাতকে সম্মিলিত উদ্যোগ নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
দক্ষতা উন্নয়ন ও শিক্ষা
ভারতের বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থা অনেকাংশেই মুখস্থনির্ভর, যা দক্ষ জনশক্তি তৈরিতে বড় বাধা। স্নাতকদের কর্মসংস্থানের উপযোগী করতে বৃত্তিমূলক প্রশিক্ষণ এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাসহ আধুনিক প্রযুক্তিতে দক্ষ করার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। জ্ঞানভিত্তিক অর্থনীতি গড়ার লক্ষ্যে গবেষণা ও উন্নয়নে বিনিয়োগ বাড়ানোর প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরা হয়েছে।
স্বাস্থ্য ও টেকসই উন্নয়ন
স্বাস্থ্যসেবা খাতে আয়ুষ্মান ভারতসহ বিভিন্ন উদ্যোগ প্রশংসিত হলেও, দীর্ঘস্থায়ী রোগের প্রাদুর্ভাব ও সরকারি ব্যয়ের সীমাবদ্ধতা বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। অন্যদিকে, উন্নয়নের ক্ষেত্রে ভারত কোনোভাবেই উচ্চ কার্বননির্ভর পথ অনুসরণ করবে না। বরং বিশ্বের প্রথম দেশ হিসেবে টেকসই উন্নয়নের মাধ্যমে উচ্চ আয়ের অর্থনীতিতে পরিণত হওয়ার সুযোগ ভারতের রয়েছে।
পরবর্তী পদক্ষেপ
আগামী ২০ বছর ভারতের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। দেশের এই লক্ষ্য অর্জনে মিশন মোডে কাজ করার কোনো বিকল্প নেই। সরকারি ও বেসরকারি সম্মিলিত প্রচেষ্টার মাধ্যমে সব ধরনের প্রতিবন্ধকতা দূর করে ভারতকে একটি উন্নত রাষ্ট্রে রূপান্তর করা সম্ভব বলে মনে করেন ড. মোহন কুমার।