যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটনে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প মার্কিন নৌবাহিনীর জাহাজ নির্মাণের ক্ষেত্রে এক নতুন ও বিতর্কিত সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছেন। বৃহস্পতিবার জারি করা এক ন্যাশনাল সিকিউরিটি প্রেসিডেন্সিয়াল মেমোরেন্ডামে ট্রাম্প অন্তত কয়েকটি নৌ-জাহাজ বিদেশি শিপইয়ার্ডে তৈরির নির্দেশ দিয়েছেন। তিনি মনে করেন, এই উদ্যোগ মার্কিন নৌবাহিনীর সক্ষমতা বৃদ্ধিতে সহায়ক হবে।
নতুন এই নির্দেশনায় ফিনল্যান্ড মডেল অনুসরণ করার কথা বলা হয়েছে। এই মডেল অনুযায়ী, প্রথম পর্যায়ের জাহাজগুলো বিদেশে নির্মিত হবে এবং পরবর্তী জাহাজগুলো যুক্তরাষ্ট্রে তৈরি হবে। তবে শর্ত দেওয়া হয়েছে যে, বিদেশি নির্মাতাদের ভবিষ্যতে যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরে বিনিয়োগসহ কঠোর কিছু শর্ত মেনে চলতে হবে। প্রতিটি শ্রেণির সর্বোচ্চ দুটি জাহাজ বিদেশে তৈরির সুযোগ থাকবে।
এই সিদ্ধান্তের ফলে সামরিক ও কৌশলগত দিক থেকে বড় ধরনের চ্যালেঞ্জ তৈরি হতে পারে বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন। মার্কিন নৌবাহিনীর জন্য বিশেষ ধরনের যুদ্ধজাহাজ নির্মাণের ক্ষেত্রে প্রযুক্তিগত জটিলতা এবং নকশা সংক্রান্ত পার্থক্যের বিষয়টি সামনে চলে আসছে। বিশ্লেষকদের মতে, বিদেশি শিপইয়ার্ডে তৈরি জাহাজের সাথে মার্কিন নৌবাহিনীর যোগাযোগ ব্যবস্থা ও যুদ্ধের সরঞ্জাম খাপ খাওয়ানো বেশ কঠিন হবে।
কংগ্রেসে এই পরিকল্পনা নিয়ে দেখা দিয়েছে বড় ধরনের রাজনৈতিক সংকট। প্রতিনিধি পরিষদ এবং সেনেটের অনেক আইনপ্রণেতা বিদেশে যুদ্ধজাহাজ নির্মাণের তীব্র বিরোধিতা করছেন। তাদের মতে, এটি মার্কিন শিপইয়ার্ডের চাকরি ও শিল্প সক্ষমতাকে ক্ষতিগ্রস্ত করবে। শিপিইয়ার্ড কাউন্সিল অব আমেরিকার মতো সংস্থাও এই সিদ্ধান্তের কঠোর সমালোচনা করে স্থানীয় শিপইয়ার্ডে বিনিয়োগের দাবি জানিয়েছে।
যদিও ট্রাম্প প্রশাসন দাবি করছে, বিদেশি বিনিয়োগের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ শিপইয়ার্ডগুলোকে শক্তিশালী করাই তাদের মূল লক্ষ্য। তবে ২০২৭ সালের প্রতিরক্ষা বাজেটের অংশ হিসেবে এই প্রস্তাব নিয়ে আইনপ্রণেতাদের সঙ্গে হোয়াইট হাউসের টানা-পোড়েন অব্যাহত রয়েছে।