ঢাকাThursday , 17 September 2026
  1. অর্থনীতি
  2. আইন ও বিচার
  3. আন্তর্জাতিক
  4. ইতিহাস
  5. খেলা
  6. খেলাধুলা
  7. চাকরি
  8. জাতীয়
  9. ধর্মীয় সম্প্রীতি
  10. পরিবেশ ও কৃষি
  11. প্রযুক্তি
  12. বিনোদন
  13. বিশেষ প্রতিবেদন
  14. বিশ্ব
  15. ভিডিও
আজকের সর্বশেষ সব খবর

ক্ষতিকর লবণাক্ত বর্জ্য ছাড়াই সমুদ্রের পানিকে বিশুদ্ধ করার প্রযুক্তি উদ্ভাবন


September 17, 2026 1:45 am
Link Copied!

যুক্তরাষ্ট্রের রচেস্টার বিশ্ববিদ্যালয়ে সমুদ্রের পানি থেকে বিশুদ্ধ পানি তৈরির নতুন একটি সৌরচালিত প্রযুক্তি উদ্ভাবন করেছেন বিজ্ঞানীরা। বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক চুনলেই গুও এবং তার নেতৃত্বাধীন গবেষণা দল এই প্রযুক্তিটি তৈরি করেছেন, যা সমুদ্রের পানিকে বিশুদ্ধ করার পাশাপাশি পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর লবণাক্ত বর্জ্য তৈরি হওয়া রোধ করে। নতুন এই উদ্ভাবন বিশ্বজুড়ে সুপেয় পানির সংকট নিরসনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে।

প্রচলিত ডিস্যালিনেশন পদ্ধতিগুলোতে সাধারণত সমুদ্রের পানি থেকে লবণ আলাদা করার সময় প্রচুর শক্তির প্রয়োজন হয় এবং প্রচুর পরিমাণে ক্ষতিকর লবণাক্ত বর্জ্য বা ব্রাইন তৈরি হয়। এই বর্জ্য সমুদ্রে ফেরত পাঠানোর ফলে সামুদ্রিক পরিবেশের ভারসাম্য নষ্ট হয় এবং অক্সিজেনের মাত্রা কমে যায়। রচেস্টার বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞানীরা এই সমস্যা সমাধানে ফেরেন্টোসেকেন্ড লেজার প্রযুক্তি ব্যবহার করেছেন।

প্রযুক্তিটি কীভাবে কাজ করে

গবেষকরা ধাতব প্যানেলের উপরিভাগে লেজারের মাধ্যমে বিশেষ সূক্ষ্ম কাঠামো তৈরি করেছেন। এটি সূর্যের আলোকে শোষণ করে পানিকে দ্রুত বাষ্পীভূত করতে সক্ষম। বিশেষ এই ধাতব প্যানেল সমুদ্রের পানিকে পাতলা স্তরে ছড়িয়ে দেয়, ফলে সূর্যের তাপে পানি বাষ্পীভূত হওয়ার পর লবণ এবং অন্যান্য খনিজ উপাদানগুলো কঠিন আকারে জমা হয়। বাষ্পীভূত পানি আলাদা হওয়ার পর প্যানেলের নকশাই লবণকে এমনভাবে সরিয়ে দেয় যে প্যানেলটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে পরিষ্কার থাকে।

লিথিয়াম আহরণ

এই প্রযুক্তির আরেকটি বিশেষ দিক হলো সমুদ্রের পানি থেকে মূল্যবান খনিজ আহরণ। প্যানেলের মাইক্রোস্কোপিক খাঁজে হাইড্রোজেন টাইটানেট ন্যানো পার্টিকেল ব্যবহারের মাধ্যমে বিজ্ঞানীরা পানি থেকে লিথিয়াম আলাদা করতে সক্ষম হয়েছেন। বর্তমান বিশ্বে বৈদ্যুতিক গাড়ি এবং স্মার্টফোনের ব্যাটারি তৈরিতে লিথিয়ামের ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। গবেষকদের দাবি, এই পদ্ধতির মাধ্যমে বর্জ্যকে সম্পদে রূপান্তর করা সম্ভব।

ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা

গবেষণাটি লাইট: সায়েন্স অ্যান্ড অ্যাপ্লিকেশন্স এবং জার্নাল অফ ম্যাটেরিয়ালস কেমিস্ট্রি এ-তে প্রকাশিত হয়েছে। অধ্যাপক চুনলেই গুও জানান, প্রযুক্তিটি এখনো প্রাথমিক পর্যায়ে থাকলেও এর নকশাটি সহজ এবং যেকোনো পরিসরে ব্যবহারযোগ্য। বাণিজ্যিকভাবে এটি সফলভাবে প্রয়োগ করা গেলে একদিকে যেমন সুপেয় পানির চাহিদা পূরণ হবে, অন্যদিকে পরিবেশের ক্ষতি না করেই মূল্যবান খনিজ আহরণ সহজতর হবে।