যুক্তরাজ্যের জাতীয় পরিসংখ্যান দপ্তরের (ওএনএস) তথ্য অনুযায়ী, আগস্ট মাসে দেশটিতে মূল্যস্ফীতি বেড়ে ৩ দশমিক ১ শতাংশে দাঁড়িয়েছে, যা গত পাঁচ মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ। মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতের কারণে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের সরবরাহ ব্যাহত হওয়ায় পেট্রোল ও ডিজেলের দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে বলে জানানো হয়েছে।
পরিসংখ্যান দপ্তরের তথ্যমতে, গত বছরের আগস্টের তুলনায় দেশটিতে মোটর জ্বালানির দাম ২৩ শতাংশ বেড়েছে। মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিতিশীল পরিস্থিতির কারণে অপরিশোধিত তেলের দাম প্রতি ব্যারেল ৯১ ডলার ছাড়িয়ে গেছে, যা যুদ্ধ শুরুর আগে ছিল প্রায় ৭৩ ডলার। এর ফলে পেট্রোলের গড় দাম লিটারপ্রতি ৯ দশমিক ১ পেনি বেড়ে ১৬১ দশমিক ৩ পেনিতে দাঁড়িয়েছে, যা ২০২২ সালের নভেম্বরের পর সর্বোচ্চ।
জ্বালানি তেলের এই উচ্চমূল্য কেবল গাড়িচালকদের ওপরই প্রভাব ফেলছে না, বরং ছোট ব্যবসায়ীদের জন্যও সংকট তৈরি করেছে। এশেক্সের একটি পেট্রোল স্টেশনের মালিক গোরান র্যাভেন জানিয়েছেন, তেলের দামের অস্থিরতা তাদের ব্যবসায় সরাসরি নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে এবং গত বছরের তুলনায় তাদের বিক্রি প্রায় ২০ শতাংশ কমেছে।
ভবিষ্যৎ পরিস্থিতি নিয়ে অর্থনীতিবিদরা সতর্ক বার্তা দিয়েছেন। ক্যাপিটাল ইকোনমিকসের পল ডেলস পূর্বাভাস দিয়েছেন, জ্বালানি তেলের উচ্চমূল্যের প্রভাবে আগামী জানুয়ারিতে মূল্যস্ফীতি ৪ দশমিক ২ শতাংশ পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে। তবে বর্তমানে খাদ্য ও পানীয়ের দামের ওপর এর প্রভাব এখনো সীমিত রয়েছে।
যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহাম মূল্যস্ফীতিকে উদ্বেগের কারণ হিসেবে উল্লেখ করলেও দেশটির অর্থনীতি স্থিতিশীল বলে দাবি করেছেন। সরকার অর্থনীতিকে সঠিক পথে রাখতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার কথা জানিয়েছে। অন্যদিকে, বিরোধী দলীয় নেতারা সরকারের জ্বালানি নীতি ও জীবনযাত্রার ব্যয় নিয়ে তীব্র সমালোচনা করেছেন।
এদিকে সাধারণ মানুষের ওপর এর প্রভাব পড়ছে ব্যাপক হারে। নর্দান আয়ারল্যান্ডের বাসিন্দা এমা অ্যাশফিল্ড জানিয়েছেন, নিত্যপণ্যের দাম অস্বাভাবিক বেড়ে যাওয়ায় জীবন চালানো কঠিন হয়ে পড়েছে এবং আসন্ন শীতের আগে বিদ্যুৎ ও গ্যাস বিল নিয়ে তিনি নতুন করে দুশ্চিন্তায় রয়েছেন। পরিস্থিতি সামাল দিতে সরকার ১ অক্টোবর থেকে গৃহস্থালি বিদ্যুতের ওপর ভ্যাট কমানোর ঘোষণা দিলেও, গ্যাসের মূল্য বৃদ্ধি পাওয়ায় সাধারণ মানুষের ভোগান্তি কমছে না।