মৌলভীবাজারের জুড়ীতে পরকীয়া সম্পর্কের জেরে সিএনজি চালক আবুল কালাম বলাইকে (৪০) কুপিয়ে হত্যার পর নদীতে লাশ ফেলে দেওয়ার ঘটনায় আছমা বেগম ও তাঁর মেয়ে লিমা আক্তারকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। বৃহস্পতিবার দুপুরে জুড়ী নদী থেকে লাশ উদ্ধারের পর জিজ্ঞাসাবাদের ভিত্তিতে রাতে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। শুক্রবার আদালতের মাধ্যমে তাদের কারাগারে পাঠানো হয়েছে। নিহত আবুল কালাম উপজেলার বড়ধামাই গ্রামের বাসিন্দা ছিলেন।
ঘটনার বিবরণ
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সিএনজি চালক বলাই আছমা বেগমের বাড়িতে যাতায়াত করতেন এবং একপর্যায়ে তাদের মধ্যে অবৈধ সম্পর্ক গড়ে ওঠে। গত মঙ্গলবার রাতে বলাই আছমার বাড়িতে যান। এরপর থেকে তিনি নিখোঁজ ছিলেন। বৃহস্পতিবার জায়ফরনগর ইউনিয়নের জাঙ্গিরাই এলাকায় জুড়ী নদীতে লাশ ভাসতে দেখে স্থানীয়রা পুলিশকে খবর দেন। উদ্ধার হওয়া লাশের গলায় ধারালো অস্ত্রের গভীর আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়।
পুলিশের তদন্ত ও স্বীকারোক্তি
নিহতের ছোট ভাই হাফিজ উদ্দিন অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের আসামি করে থানায় মামলা করার পর পুলিশ বলাইয়ের মুঠোফোনের কললিস্ট ধরে আছমা ও তাঁর মেয়ে লিমাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করে। জুড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রফিকুল ইসলাম জানান, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আছমা হত্যার দায় স্বীকার করেছেন। তাঁর ভাষ্যমতে, বিয়ের জন্য চাপ সৃষ্টি করায় বলাই তাঁকে ও তাঁর মেয়েকে হুমকি দিচ্ছিলেন।
হত্যার পর যা ঘটেছিল
মঙ্গলবার রাত তিনটার দিকে ঘুমন্ত অবস্থায় বলাইকে ধারালো দা দিয়ে কুপিয়ে হত্যা করেন আছমা। এরপর মেয়ে লিমা আক্তারকে ডেকে তুলে উভয়ে মিলে লাশটি টেনে নিয়ে ১০০ ফুট দূরের নদীতে ফেলে দেন। আছমার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত দা এবং ঘরের মাটির নিচে পুঁতে রাখা বলাইয়ের মুঠোফোন জব্দ করেছে পুলিশ। তাদের ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি গ্রহণের জন্য আদালতে পাঠানো হয়েছে।