ইথিওপিয়ার রাজধানী আদ্দিস আবাবায় গত কয়েক মাসে হিপ-হপ সঙ্গীতের একটি আগ্রাসী ধারা ‘ড্রিল’ মিউজিক ব্যাপক জনপ্রিয়তা পেয়েছে। এক বছর আগেও যা কেবল সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের গণ্ডিতে সীমাবদ্ধ ছিল, তা এখন শহরের মূলধারার ক্লাব ও বারগুলোতে দাপিয়ে বেড়াচ্ছে।
সংক্ষেপে যা জানা গেছে
- এক বছর আগে ইথিওপিয়ায় ড্রিল মিউজিক কেবল ইন্টারনেটে সীমাবদ্ধ থাকলেও এখন তা রাজপথে জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে।
- দ্রুত লয় এবং সহিংস শব্দচয়নের জন্য পরিচিত এই ঘরানার সঙ্গীত আদ্দিস আবাবায় প্রধান ধারার বিনোদনের অংশ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
- বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রজন্মের অনিশ্চয়তা ও রাজনৈতিক অস্থিরতার প্রতিফলন হিসেবে তরুণরা এই ধারার প্রতি ঝুঁকছে।
- ইথিওপিয়ার রক্ষণশীল সমাজে ড্রিল মিউজিকের এই উত্থান নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক ও দ্বিমত তৈরি হয়েছে।
বিস্তারিত প্রতিবেদন
ইথিওপিয়ার সংগীত জগতে এক অভাবনীয় পরিবর্তন লক্ষ্য করা যাচ্ছে। গত কয়েক মাসে দেশটির রাজধানী আদ্দিস আবাবায় ড্রিল মিউজিক নামক হিপ-হপ সঙ্গীতের একটি বিশেষ ঘরানা ঝড়ের গতিতে জনপ্রিয় হয়েছে। অথচ মাত্র এক বছর আগেও এই ধারার সংগীত কেবল ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম বা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সীমাবদ্ধ ছিল। বর্তমানে শহরের ব্যস্ততম বার এবং নাইটক্লাবগুলোতে এই মিউজিক বাজছে, যা দেশটির সংগীত ঐতিহ্যে এক ভিন্ন মাত্রা যোগ করেছে।
ড্রিল মিউজিক মূলত এর দ্রুত লয় এবং অনেক ক্ষেত্রে সহিংস বা উস্কানিমূলক লিরিক্সের জন্য পরিচিত। ইথিওপিয়ার তরুণ প্রজন্ম, বিশেষ করে জেনারেশন জেড বা বর্তমান যুবসমাজ এই গানের মাধ্যমে তাদের আবেগের বহিঃপ্রকাশ ঘটাচ্ছে। তবে এই জনপ্রিয়তার সাথে সাথে সামাজিক অস্থিরতার আশঙ্কাও বাড়ছে। দেশটির একটি বড় অংশ মনে করে, এই ধরণের গান তাদের সামাজিক মূল্যবোধের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। রক্ষণশীল দেশ হিসেবে ইথিওপিয়ায় ড্রিল মিউজিকের এই ব্যাপক গ্রহণযোগ্যতা এক নতুন সামাজিক সংকটের সূচনা করতে পারে বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন।
বিশ্লেষণ
ইথিওপিয়ায় ড্রিল মিউজিকের এই বিস্ফোরণ কেবল একটি সংগীত প্রবণতা নয়, বরং এর পেছনে গভীর সামাজিক ও রাজনৈতিক কারণ রয়েছে। বর্তমানে ইথিওপিয়ার তরুণরা এক ধরণের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। ভবিষ্যতের অনিশ্চয়তা তাদের প্রথাগত ধারার বাইরে ভিন্নধর্মী ও কিছুটা আক্রমণাত্মক সংগীতের প্রতি আকৃষ্ট করছে।
তবে ইথিওপিয়া ঐতিহাসিকভাবে একটি অত্যন্ত রক্ষণশীল দেশ। ফলে, ড্রিল মিউজিকের এই উগ্র লিরিক্স এবং জীবনধারা নিয়ে বয়োজ্যেষ্ঠ ও রক্ষণশীল গোষ্ঠীর মধ্যে ব্যাপক ক্ষোভ রয়েছে। সংগীতের মাধ্যমে তরুণদের এই বিদ্রোহী কণ্ঠস্বর কি কেবল একটি সাময়িক উত্তেজনা, নাকি এটি ইথিওপিয়ার সাংস্কৃতিক পরিবর্তনের এক নতুন মাইলফলক—তা দেখার বিষয়। এই পরিস্থিতির প্রভাব দেশটির সামাজিক স্থিতিশীলতা ও তরুণ প্রজন্মের মানসিকতায় কতটা গভীর হবে, তা এখনই স্পষ্ট নয়।
সূত্র: france24.com