ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভ এবং দ্বিতীয় বৃহত্তম শহর খারকিভে রাশিয়া ভয়াবহ ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে। এই আকস্মিক হামলায় অন্তত চারজন নিহত এবং ৩৬ জনেরও বেশি মানুষ আহত হয়েছেন বলে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ নিশ্চিত করেছে।
- রাশিয়ার এই হামলায় ইউক্রেনের প্রধান দুটি শহর কিয়েভ ও খারকিভকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে।
- হামলায় এখন পর্যন্ত অন্তত ৪ জন বেসামরিক নাগরিক নিহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।
- আহতদের সংখ্যা ৩৬ জনের বেশি, যাদের উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
- কিয়েভ পাল্টা ব্যবস্থা হিসেবে রাশিয়ার অবকাঠামোগত স্থাপনায় নিজের হামলা অব্যাহত রেখেছে।
স্থানীয় সময় মঙ্গলবার ভোরে ইউক্রেনের গুরুত্বপূর্ণ শহরগুলোতে নতুন করে বড় ধরনের ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায় রাশিয়া। সামরিক কর্মকর্তাদের তথ্য অনুযায়ী, এই হামলায় আধুনিক ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করা হয়েছে, যা শহরের আবাসিক এলাকা ও গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোর ওপর আঘাত হেনেছে। কিয়েভের মেয়র জানিয়েছেন, আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সক্রিয় থাকলেও অনেকগুলো ক্ষেপণাস্ত্রের ধ্বংসাবশেষ আবাসিক ভবনে পড়ায় ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ বেড়ে গেছে।
খারকিভের পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ। সেখানে একাধিক আবাসিক ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং অনেক মানুষ ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকা পড়েছেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। জরুরি সেবা বিভাগ ও উদ্ধারকারী দলগুলো দিনভর উদ্ধার তৎপরতা চালিয়েছে। ইউক্রেনীয় বিমানবাহিনী দাবি করেছে, তারা বেশ কয়েকটি ক্ষেপণাস্ত্র ভূপাতিত করতে সক্ষম হয়েছে, তবে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের গতির কারণে সম্পূর্ণ সুরক্ষা নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি। এই হামলার জবাবে ইউক্রেনও রাশিয়ার ভেতরে অবস্থিত জ্বালানি ও সামরিক স্থাপনাগুলোতে ড্রোন হামলা চালাচ্ছে বলে জানা গেছে।
বিশ্লেষণ
এই হামলাটি মূলত ইউক্রেনের প্রতিরক্ষা সক্ষমতাকে চ্যালেঞ্জ জানানোর একটি পরিকল্পিত কৌশল হিসেবে দেখা হচ্ছে। রাশিয়ার এই আগ্রাসন মূলত দেশটির চলমান পাল্টা আক্রমণ এবং পশ্চিমা সামরিক সহায়তার প্রতিক্রয়া হিসেবে বিবেচনা করা যেতে পারে।
প্রেক্ষাপট বিশ্লেষণে দেখা যায়, ইউক্রেন সম্প্রতি রাশিয়ার ভেতরে জ্বালানি শোধনাগার এবং লজিস্টিক সাপ্লাই চেইন লক্ষ্য করে হামলা বৃদ্ধি করেছে, যা ক্রেমলিনের জন্য বড় ধরনের অর্থনৈতিক চাপের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এই পরিস্থিতির প্রতিশোধ নিতেই রাশিয়া তার শক্তিশালী ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের ভাণ্ডার ব্যবহার করছে। এতে করে ইউক্রেনের সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক ছড়ানোর পাশাপাশি দেশটির মনোবল ভেঙে দেওয়ার কৌশলও স্পষ্ট। তবে, এই পাল্টাপাল্টি হামলা যুদ্ধের তীব্রতাকে বহুগুণ বাড়িয়ে দিচ্ছে এবং একটি দীর্ঘস্থায়ী ও রক্তক্ষয়ী সংঘাতের দিকে পরিস্থিতির মোড় ঘুরিয়ে দিচ্ছে, যা পুরো অঞ্চলের নিরাপত্তার জন্য বড় ধরনের ঝুঁকি তৈরি করেছে।
সূত্র: bbc.co.uk