যুক্তরাষ্ট্রের জর্জিয়া অঙ্গরাজ্যের অগাস্টায় মার্কিন সেনাবাহিনীর কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ২০২৭ অর্থবছরে ইলেকট্রোম্যাগনেটিক স্পেকট্রাম অপারেশনস (EMSO) সক্ষমতা বাড়াতে নতুন কোনো প্রকল্প বাজেটে না থাকলেও, বিদ্যমান প্রোটোটাইপ এবং বিভিন্ন বাণিজ্যিক সমাধানের মাধ্যমে সেনাদের নতুন সরঞ্জাম দেওয়ার পরিকল্পনা করা হয়েছে।
ইলেক্ট্রোম্যাগনেটিক ওয়ারফেয়ার অ্যান্ড কালেকশন বিভাগের উপ-প্রকল্প ব্যবস্থাপক মার্ক স্যাক্সন জানান, সেনাবাহিনীর মূল লক্ষ্য হলো নতুন করে অর্থ খরচ না করে বিদ্যমান বাণিজ্যিক ব্যবস্থা ও শিল্প খাতের উদ্ভাবনী ধারণাগুলোকে কাজে লাগানো। এটি বাস্তবায়নে সেনাবাহিনী দুটি কৌশল অবলম্বন করছে। প্রথমত, কেন্টাকির ভি কোর-এর সাথে মিলে গবেষণা ও উন্নয়ন তহবিলের সহায়তায় ছোট পরিসরে পরীক্ষামূলক কার্যক্রম চালানো হচ্ছে। এই কোর ইউরোপে মোতায়েন থাকা সেনাদের জন্য পাইলট প্রকল্প হিসেবে কাজ করবে। এছাড়া, আরইডব্লিউএসআই (REWSI) নামক একটি লাইব্রেরি থেকে প্রয়োজনীয় বাণিজ্যিক সরঞ্জাম নির্বাচন করার সুযোগ থাকবে, যা প্রতিটি ইউনিটের প্রয়োজন অনুযায়ী প্রযুক্তি সরবরাহ নিশ্চিত করবে।
দ্বিতীয় কৌশলটি হলো, বিদ্যমান অন্যান্য সামরিক প্রোগ্রামের প্রয়োজনীয়তাকে কাজে লাগানো। আর্মি ফিউচারস অ্যান্ড কনসেপ্টস কমান্ডের ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার ডিরেক্টরেটের পরিচালক কর্নেল জন হ্যারেল জানান, বিমান চলাচল বা অন্যান্য কৌশলগত ইউনিটের যে সরঞ্জামগুলো রয়েছে, সেগুলোর উন্নয়ন তহবিলের একটি অংশ ইলেকট্রনিক যুদ্ধের সক্ষমতা বৃদ্ধিতে ব্যবহার করা সম্ভব।
শীতল যুদ্ধের পর সেনাবাহিনী ইলেকট্রনিক যুদ্ধের সরঞ্জাম কমিয়ে ফেলেছিল, যা পূরণ করতে দীর্ঘ সময় লেগেছে। এখন নতুন কর্মপদ্ধতিতে খুব নির্দিষ্ট প্রযুক্তির ওপর নির্ভর না করে নমনীয়তা বজায় রাখা হচ্ছে। এর মাধ্যমে গোয়েন্দা ও ইলেকট্রনিক যুদ্ধ ইউনিটের গঠন অনুযায়ী সরঞ্জামগুলোতে পরিবর্তন আনা সম্ভব হবে।
মার্ক স্যাক্সন আরও জানান, বর্তমানে নেক্সট জেনারেশন কমান্ড অ্যান্ড কন্ট্রোল ব্যবস্থার মাধ্যমে পরীক্ষামূলক ইউনিটগুলোতে নতুন প্রযুক্তির কার্যকারিতা যাচাই করা হচ্ছে। বিভিন্ন ইউনিটের কমান্ডাররা তাদের কাজের ধরন অনুযায়ী এই সরঞ্জাম ব্যবহারের ক্ষেত্রে ভিন্ন ভিন্ন কৌশল অবলম্বন করছেন, যা ভবিষ্যতে সেনাদের আধুনিক যুদ্ধের জন্য আরও দক্ষ করে তুলবে।