বাংলাদেশের ঢাকায় জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ২৫৫ ভোট পেয়ে দেশের ২৪তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন বিএনপির প্রার্থী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদ সদস্যদের সরাসরি ভোটে তিনি এই জয়লাভ করেন। সংবিধানের নিয়ম অনুযায়ী, আজ শুক্রবার সন্ধ্যায় নবনির্বাচিত রাষ্ট্রপতি শপথ গ্রহণ করবেন। রাষ্ট্রপতির পদটি শূন্য হওয়ার পর সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা ও গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া বজায় রাখতে এই নির্বাচনের আয়োজন করা হয়।
সংসদীয় গণতন্ত্রে রাষ্ট্রপতির পদটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং সাংবিধানিক প্রধান হিসেবে রাষ্ট্রপতির ভূমিকা অপরিসীম। গত ২৪ জুলাই তৎকালীন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন পদত্যাগ করার পর স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করছিলেন। এরপর নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের জন্য নির্বাচন কমিশন তফসিল ঘোষণা করে।
বৃহস্পতিবারের নির্বাচনে ৩৪৯ জন সংসদ সদস্যের মধ্যে ৩৪৩ জন ভোট প্রদান করেন। নির্বাচনে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে ছিলেন জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১-দলীয় ঐক্যের প্রার্থী অলি আহমদ, যিনি ৮৮ ভোট পেয়েছেন। নির্বাচনের ফলাফলের পর সংসদ কক্ষে প্রধানমন্ত্রী ও সংসদ নেতা তারেক রহমান নবনির্বাচিত রাষ্ট্রপতিকে ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানান।
ভোট গ্রহণের প্রক্রিয়া এবং অংশগ্রহণ
দুপুর ২টা থেকে ৫টা পর্যন্ত সংসদ কক্ষে ভোট গ্রহণ চলে। প্রধান নির্বাচন কমিশনার এ এম এম নাসির উদ্দীন নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণা করেন। নির্বাচনে ৩৪৯ জন ভোটারের মধ্যে ৬ জন ভোট দেওয়া থেকে বিরত ছিলেন। এদের মধ্যে মির্জা আব্বাস, মোস্তফা কামাল পাশা ও ওসমান ফারুকসহ কয়েকজন ব্যক্তিগত কারণ বা বিদেশে অবস্থানের কারণে ভোট দিতে পারেননি। এছাড়া স্বতন্ত্র সদস্য রুমিন ফারহানা নির্বাচনে অংশগ্রহণ না করার সিদ্ধান্ত জানিয়েছিলেন।
ইসলামী আন্দোলনের সিদ্ধান্ত পরিবর্তন
শুরুতে ভোটদানে বিরত থাকার সিদ্ধান্ত নিলেও পরবর্তীতে বিএনপির আশ্বাসে ইসলামী আন্দোলনের একমাত্র সংসদ সদস্য মাওলানা মাহমুদুল হোসাইন অলিউল্লাহ ভোট প্রদান করেন। বিএনপি আগামী নির্বাচনে জুলাই সনদের প্রতিফলন ঘটানো এবং সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদ সংশোধনের প্রতিশ্রুতি দিলে তারা ভোট দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয় বলে জানা গেছে।