তুরস্কের কোজাইলি শহরে আয়োজিত ‘টেকনোফেস্ট ব্লু হোমল্যান্ড’ নৌ-প্রদর্শনীতে তুর্কি অ্যারোস্পেসের (টিএ) প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মেহমেত দেমিরোগলু জানিয়েছেন, তারা নিজস্ব প্রযুক্তিতে তৈরি প্রশিক্ষণ ও হালকা যুদ্ধবিমান হুরজেটের একটি নৌ-সংস্করণ তৈরির কাজ শুরু করেছেন। ন্যাটো জোটের দেশগুলোতে রপ্তানি বাড়ানোর লক্ষ্যেই এই নতুন সংস্করণটি তৈরি করা হচ্ছে।
দেমিরোগলু জানান, নৌ-পরিচালনা ব্যবস্থা স্থলভাগের তুলনায় অনেক বেশি চ্যালেঞ্জিং হওয়ায় এই বিমানে শক্তিশালী ইঞ্জিন সংযোজন করা হবে। বিমানটির নকশা কেমন হবে তা নির্ধারণের কাজ এখনো প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে।
প্রশিক্ষণ কর্মসূচি নিয়ে আলোচনা
ব্রিটেনের প্রশিক্ষণ বিমান সংগ্রহের কর্মসূচিতে অংশগ্রহণের বিষয়ে প্রায় এক বছর ধরে আলোচনা চলছে বলে জানিয়েছেন টিএ-এর প্রধান। এ প্রক্রিয়ায় প্রয়োজনীয় সব ধরনের সহযোগিতা চালিয়ে যাওয়ার কথা জানান তিনি। এর আগে ২০২৫ সালে এয়ারবাসের সাথে চুক্তির মাধ্যমে স্পেনকে হুরজেট সরবরাহের বিষয়টি নিশ্চিত করেছে তুরস্ক। ২০২৭ সালের শেষ নাগাদ তুর্কি বিমান বাহিনীতে এবং ২০২৮ সালের মধ্যে স্পেনে এই বিমান পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য রয়েছে কোম্পানির।
কাান যুদ্ধবিমান ও অন্যান্য অগ্রগতি
টিএ বর্তমানে তুরস্কের পঞ্চম প্রজন্মের যুদ্ধবিমান ‘কাান’ তৈরির কাজও চালিয়ে যাচ্ছে। দেমিরোগলু জানিয়েছেন, প্রথম ব্যাচের কাান বিমানে যুক্তরাষ্ট্রের তৈরি জেনারেল ইলেকট্রিক এফ-১১০ ইঞ্জিন ব্যবহার করা হবে। ২০৩০ সাল নাগাদ তুরস্কের নিজস্ব প্রযুক্তিতে তৈরি টিএফ৩৫০০০ ইঞ্জিন প্রস্তুত না হওয়া পর্যন্ত এই মার্কিন ইঞ্জিনের ওপর নির্ভর করবে কোম্পানিটি।
বর্তমানে হুরজেটের দুটি উড়ন্ত বিমানের পাশাপাশি আরও চারটি প্রোটোটাইপ তৈরির কাজ চলছে। এছাড়া কাান প্রকল্পের অধীনে একটি প্রোটোটাইপ ইতিমধ্যে আকাশে উড়ছে এবং এই বছর আরও দুটি উড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে। তৃতীয় প্রোটোটাইপটির মাধ্যমে অস্ত্র বহন ও সংহতকরণ পরীক্ষা শুরু করার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে তুর্কি অ্যারোস্পেস।