যুক্তরাষ্ট্রের লস অ্যাঞ্জেলেসের বিনোদন জগতে এখন অন্যতম প্রভাবশালী নাম টেলর শেরিডান। বর্তমানে টেক্সাসে বিশাল খামারের মালিক এবং একাধিক জনপ্রিয় টিভি ফ্র্যাঞ্চাইজির নিয়ন্ত্রক হলেও, তার এই অবস্থানে পৌঁছানোর পথটি ছিল অত্যন্ত বন্ধুর। টাউন অ্যান্ড কান্ট্রি ম্যাগাজিনকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে শেরিডান নিজেই জানিয়েছেন যে, সাফল্যের স্বাদ পাওয়ার আগে তাকে জীবনের কঠিন বাস্তবতার মুখোমুখি হতে হয়েছে।
শেরিডান জানান, ক্যারিয়ারের শুরুতে তিনি দুইবার গৃহহীন হওয়ার অভিজ্ঞতা লাভ করেছেন। লস অ্যাঞ্জেলেসে চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে কাটানো সেই দিনগুলোর কথা স্মরণ করে তিনি বলেন, তখন নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে তিনি ওহাইয়ের দিকে গাড়ি চালিয়ে চলে যেতেন এবং টানা ছয় মাস গাড়িতেই রাত কাটিয়েছেন।
অভিনয়শিল্পী হিসেবে পরিচিতি পাওয়ার চেষ্টায় দীর্ঘ সময় পার করেছেন শেরিডান। ২০০৮ সালে এফএক্স নেটওয়ার্কের ‘সনস অব অ্যানার্কি’ সিরিজে অভিনয় করে তিনি কিছুটা পরিচিতি পান। তবে পারিশ্রমিক নিয়ে মতবিরোধের জেরে সেই ধারাবাহিক ছেড়ে আসার পর তার ক্যারিয়ার একরকম থমকে যায়।
তিনি বলেন, সেই কঠিন সময়ে চাইলেই তিনি সব ছেড়েছুড়ে পূর্ণকালীন কোনো চাকরির সন্ধানে যেতে পারতেন। কিন্তু নিজের স্বপ্নের প্রতি অটল থেকে তিনি সব প্রতিকূলতা জয় করার সিদ্ধান্ত নেন।
এরপর শেরিডান অভিনয়ের চেয়ে চিত্রনাট্য লেখার দিকে মনোযোগ দেন। ২০১৫ সালে তার লেখা ‘সিকারিও’ এবং পরবর্তীতে ‘হেল অর হাই ওয়াটার’ চলচ্চিত্রটি তাকে ব্যাপক পরিচিতি এনে দেয়। ‘হেল অর হাই ওয়াটার’-এর জন্য তিনি অস্কারের মনোনয়নও পান।
বর্তমানে তিনি ‘ইয়েলোস্টোন’, ‘ল্যান্ডম্যান’ ও ‘দ্য ম্যাডিসন’-এর মতো জনপ্রিয় সিরিজের সফল নির্মাতা। প্রথম চিত্রনাট্য বিক্রির অর্থ দিয়ে তিনি ওয়াইওমিংয়ে একটি ছোট বাড়ি কিনেছিলেন। সেই থেকে শুরু করে বর্তমানে তিনি টেক্সাসের বিস্তীর্ণ খামারের মালিক। তার এই খামারগুলোই বর্তমানে তার তৈরি বিভিন্ন সিরিজের চিত্রগ্রহণের স্থান হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে।