যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ার ওকল্যান্ডের ফেডারেল আদালতে ফেসবুক ও ইনস্টাগ্রামের নির্মাতা প্রতিষ্ঠান মেটার বিরুদ্ধে শিশুদের নিরাপত্তা বিষয়ক একটি গুরুত্বপূর্ণ মামলার বিচারিক কার্যক্রম শুরু হয়েছে। ক্যালিফোর্নিয়া, কলোরাডো, কেনটাকি ও নিউজার্সিসহ মোট ২৯টি অঙ্গরাজ্যের অ্যাটর্নি জেনারেলরা মেটার বিরুদ্ধে এই মামলাটি করেছেন। তাদের দাবি, মেটা শিশুদের ব্যক্তিগত তথ্য সংগ্রহে ফেডারেল গোপনীয়তা আইন বা সিওপিপিএ (COPPA) লঙ্ঘন করেছে এবং অভিভাবকের সম্মতি ছাড়াই ১৩ বছরের কম বয়সী শিশুদের তথ্য সংগ্রহ করেছে। এই রায় মেটার মূল প্ল্যাটফর্মগুলোর কার্যক্রমে বড় ধরনের পরিবর্তনের পথ তৈরি করতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।
মামলার শুনানিতে মেটার বিরুদ্ধে অভিযোগ করা হয় যে, প্রতিষ্ঠানটি ইচ্ছাকৃতভাবে শিশুদের অ্যাপে আসক্ত করে এবং তাদের তথ্য সংগ্রহ করে। ক্যালিফোর্নিয়া ডিপার্টমেন্ট অব জাস্টিসের ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মেগান ও’নিল আদালতে অভিযোগ করেন, মেটা এমন সব ফিচার ব্যবহার করে যা শিশুদের দীর্ঘসময় অ্যাপে আটকে রাখতে সাহায্য করে। অন্যদিকে, মেটার আইনজীবী পল শ্মিট সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তার দাবি, মেটা প্ল্যাটফর্মে শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা নিয়েছে। তারা সেকশন ২৩০-এর অধীনে আইনি সুরক্ষা পাওয়ার কথাও উল্লেখ করেন, যার মাধ্যমে ব্যবহারকারীর আপলোড করা কনটেন্টের জন্য প্ল্যাটফর্মকে দায়ী করা যায় না।
আদালতে সাক্ষ্য দিয়েছেন মেটার সাবেক কর্মী আর্তুরো বেজার। তিনি জানান, মেটায় থাকাকালীন সময়ে প্রতিষ্ঠানটিতে ব্যবহারকারীর নিরাপত্তার চেয়ে ব্যবসায়িক প্রবৃদ্ধি অর্জনের ওপর বেশি জোর দেওয়া হতো। পণ্য বা ফিচারের সম্ভাব্য ঝুঁকি যাচাই করা প্রায় অসম্ভব ছিল বলেও তিনি দাবি করেন। এর আগেও মেটা শিশুদের মানসিক স্বাস্থ্যের ক্ষতি এবং পাবলিক নুইসেন্স সংক্রান্ত মামলায় বড় অঙ্কের জরিমানার মুখে পড়েছে। তবে এবার তারা মামলার নিষ্পত্তির চেয়ে আইনি লড়াইয়ের পথে হেঁটেছে।
এই মামলার গুরুত্ব অনেক বেশি, কারণ মেটা যদি হেরে যায়, তবে তাদের ২০০ বিলিয়ন ডলার পর্যন্ত জরিমানা গুনতে হতে পারে। এছাড়া আদালত ফেসবুক ও ইনস্টাগ্রামে শিশুদের জন্য সময়সীমা নির্ধারণ, লাইক বাটন সরিয়ে ফেলা এবং এন্ডলেস স্ক্রল ফিচার বন্ধ করার মতো কঠোর নির্দেশনা দিতে পারে। বিচারক ইভন গঞ্জালেজ রজার্সের নেতৃত্বাধীন এই মামলার ফলাফল সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের ভবিষ্যৎ এবং শিশুদের সুরক্ষার প্রশ্নে একটি নতুন মানদণ্ড তৈরি করতে পারে।