কানাডার ম্যানিটোবা প্রদেশের উইনিপেগে প্রিমিয়ার ওয়েব কিনু যুক্তরাষ্ট্রের সাথে সম্ভাব্য বাণিজ্য চুক্তির কড়া সমালোচনা করেছেন এবং কানাডাকে কোনো তাড়াহুড়ো না করে কঠিন শর্তে অটল থাকার আহ্বান জানিয়েছেন। যুক্তরাষ্ট্রের দেওয়া বাণিজ্য চুক্তির সময়সীমা শেষ হওয়ার মাত্র কয়েক ঘণ্টা আগে প্রিমিয়ারের এই অবস্থান প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নির জন্য চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে। শুক্রবার রাতের মধ্যেই এই চুক্তি চূড়ান্ত করতে না পারলে কানাডীয় পণ্যের ওপর নতুন করে শুল্ক আরোপের হুমকি দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।
চুক্তির বর্তমান অবস্থা
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প শুক্রবার সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, কানাডার সাথে একটি চুক্তি হওয়ার পথে রয়েছে। তবে চূড়ান্ত কোনো সমঝোতার কথা তিনি নিশ্চিত করেননি। কানাডার বাণিজ্যমন্ত্রী ডমিনিক লেব্লাক এবং যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য প্রতিনিধি জেমিসন গ্রিয়ার আলোচনার পরবর্তী ধাপে অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে। ফাঁস হওয়া তথ্যে জানা গেছে, যুক্তরাষ্ট্র কানাডার ইস্পাত ও অ্যালুমিনিয়ামের ওপর শুল্ক ৫০ শতাংশ থেকে কমিয়ে ২৫ শতাংশ এবং গাড়ির শুল্ক ২৫ শতাংশ থেকে ১৫ শতাংশে নামিয়ে আনতে সম্মত হতে পারে। এর বিনিময়ে কানাডাকে তাদের বাজারে মার্কিন দুগ্ধজাত পণ্যের প্রবেশাধিকার দেওয়া এবং মার্কিন মদ বিক্রির ওপর নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার শর্ত দেওয়া হয়েছে।
প্রিমিয়ারদের ভিন্নমত
ম্যানিটোবার প্রিমিয়ার ওয়েব কিনু মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে একজন অবিশ্বস্ত ও দায়িত্বজ্ঞানহীন ব্যক্তি হিসেবে অভিহিত করেছেন। তিনি বলেছেন, এমন একজন ব্যক্তির সাথে কোনো ধরনের অতিরিক্ত ছাড় দিয়ে চুক্তি করা উচিত নয়। কিনু জানিয়েছেন, জাতীয় স্বার্থে বাধ্য হয়ে তিনি মার্কিন মদ বিক্রির অনুমতি দিলেও সাধারণ কানাডীয়দের এটি কেনা থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানাবেন।
অন্যদিকে, কিউবেকের প্রিমিয়ার ক্রিস্টিন ফ্রেশেট জানিয়েছেন, কৃষি খাতের ওপর প্রভাব যাচাই করার পর তিনি সিদ্ধান্ত নেবেন। তবে নোভা স্কোশিয়া ও ইউকন টেরিটরির প্রিমিয়াররা মার্কিন মদ বিক্রির বিষয়টি পুনরায় চালুর ব্যাপারে প্রস্তুতি জানিয়েছেন। এদিকে ওন্টারিওর একটি শহরের মেয়র ম্যাথু শুমাকার ইস্পাত শিল্পের ওপর ২৫ শতাংশ শুল্ক বহাল থাকাকে কোনো বিজয় হিসেবে দেখছেন না বলে মন্তব্য করেছেন।
চুক্তির ঝুঁকি
কানাডার অর্থনীতিবিদ ট্রেভর টম্বের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, যদি নতুন শুল্ক কার্যকর হয় তবে কানাডায় প্রায় ৯০ হাজার কর্মসংস্থান হারানোর ঝুঁকি রয়েছে। দেশটির বিরোধীদলীয় নেতা পিয়ের পোলিভরেও এই চুক্তির সমালোচনা করে একে একপাক্ষিক হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তবে প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি এমন এক চুক্তিতে পৌঁছাতে চাপের মুখে রয়েছেন যা কানাডার কৌশলগত গুরুত্বপূর্ণ খাতগুলোকে রক্ষা করবে এবং বড় ধরনের অর্থনৈতিক ক্ষতি এড়াবে। জনমত জরিপে দেখা গেছে, ৫৬ শতাংশ কানাডীয় নাগরিক যুক্তরাষ্ট্রের সাথে কঠোর অবস্থানের পক্ষে।