যুক্তরাষ্ট্রের জর্জিয়া অঙ্গরাজ্যের অগাস্টায় আয়োজিত টেকনেট সম্মেলনে মার্কিন সেনাবাহিনীর প্রধান সাইবার উপদেষ্টা ব্র্যান্ডন পিউ জানিয়েছেন, সেনাবাহিনীর সাইবার সক্ষমতা বৃদ্ধির জন্য কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) ক্ষেত্রে বিশেষ অর্থায়ন জরুরি। আগামী অর্থবছর এবং তার পরবর্তী সময়েও এটি বাজেটের প্রধান অগ্রাধিকার হিসেবে থাকবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
ব্র্যান্ডন পিউ বলেন, এখন এমন একটি পর্যায়ে আমরা পৌঁছেছি যেখানে আমাদের সুনির্দিষ্টভাবে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার জন্য আলাদা বাজেট থাকা প্রয়োজন। তিনি আরও জানান, এই তহবিল শুধুমাত্র সেনাবাহিনীর নিজস্ব হবে না, বরং যৌথ সমাধানের লক্ষ্যেও এটি ব্যবহৃত হতে পারে। সাইবার কমান্ড শুধুমাত্র তাদের প্রচলিত অপারেশনাল বাজেট দিয়ে এই প্রযুক্তিগত উন্নয়নের ব্যয় বহন করতে সক্ষম নয়।
সাইবার প্রতিরক্ষায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার গুরুত্ব ব্যাখ্যা করতে গিয়ে পিউ বলেন, প্রচলিত হ্যাকিং কৌশলের বিপরীতে প্রতিরক্ষাকারীদের জন্য কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা একটি বাড়তি সুবিধা বয়ে আনতে পারে। নিয়মিত কাজ স্বয়ংক্রিয় করা কিংবা জটিল সাইবার হুমকি মোকাবিলায় এই প্রযুক্তির কোনো বিকল্প নেই।
সেনাবাহিনীর গৃহীত রাপিড ডিফেন্স সাইবার সিস্টেমস (প্রজেক্ট এআরডিসিএস) উদ্যোগের আওতায় বর্তমানে তিনটি মূল বিষয়ে কাজ চলছে। এর মধ্যে প্রজেক্ট গ্রিফিন নামক একটি প্রকল্পে নেটওয়ার্কের হুমকি শনাক্ত করে স্বয়ংক্রিয়ভাবে ব্যবস্থা নেওয়ার সক্ষমতা তৈরির চেষ্টা করা হচ্ছে।
দ্বিতীয়ত, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহার করে আক্রমণকারীদের বিভ্রান্ত করার প্রযুক্তি নিয়ে কাজ চলছে। এছাড়া তৃতীয় উদ্যোগটি হলো নিজস্ব নেটওয়ার্ক এবং বিক্রেতাদের নিরাপত্তা ব্যবস্থা অডিট করার জন্য এজেন্টিক এআইয়ের ব্যবহার নিশ্চিত করা। প্রতিটি প্রকল্পের অগ্রগতি নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করা হবে এবং কোনো বাধা তৈরি হলে সংশ্লিষ্ট নীতিনির্ধারকরা তা দ্রুত সমাধানের পথ খুঁজবেন বলে জানান ব্র্যান্ডন পিউ।