কানাডার ম্যাকমাস্টার বিশ্ববিদ্যালয়ে এক গবেষণায় দেখা গেছে, ওজন কমানোর জন্য পরিচিত একটি হরমোন লিভারকে প্রদাহ ও ক্ষত থেকে রক্ষা করতে সক্ষম। গবেষণার প্রধান লেখক ও মেডিসিন বিভাগের অধ্যাপক গ্রেগরি স্টেইনবার্গ জানিয়েছেন, এই হরমোনটির নাম জিডিএফ-১৫ (GDF15), যা ওজন কমানো ছাড়াও লিভারের সুরক্ষায় ভূমিকা রাখতে পারে। এই নতুন তথ্য ফ্যাটি লিভার ডিজিজ বা ম্যাশ (MASH) চিকিৎসায় নতুন দিগন্ত উন্মোচন করতে পারে।
গবেষকদের তথ্য অনুযায়ী, জিডিএফ-১৫ হরমোনটি একটি বিশেষ প্রক্রিয়ায় মস্তিষ্কের মাধ্যমে লিভারে সংকেত পাঠায়। এই সংকেত লিভারে গ্লুকোকোর্টিকয়েডের নিঃসরণ ঘটায়, যা লিভারের অতিরিক্ত সক্রিয় রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতাকে শান্ত রাখতে সাহায্য করে। এতে লিভারের প্রদাহ কমে এবং টিস্যু শক্ত হয়ে যাওয়ার (ফাইব্রোসিস) প্রক্রিয়া ধীর হয়ে যায়। সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য দিক হলো, এই হরমোন ওজন কমানো বা খাদ্যাভ্যাসে পরিবর্তন ছাড়াই লিভারের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে পারে।
সেল মেটাবলিজম জার্নালে প্রকাশিত এই গবেষণায় বলা হয়, বর্তমানের বেশিরভাগ চিকিৎসাপদ্ধতি শরীরের ওজন এবং লিভারের চর্বি কমানোর ওপর গুরুত্ব দেয়। কিন্তু লিভারের ভেতরের প্রদাহ অনেক সময় ওজন কমার পরও থেকে যায়। নতুন এই আবিষ্কার ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, ভবিষ্যতে ওজন নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি লিভারের প্রদাহ সরাসরি নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে ম্যাশ রোগীদের কার্যকর চিকিৎসা দেওয়া সম্ভব হবে।
ম্যাকমাস্টার বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিসিন বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ডংডং ওয়াং জানান, জিডিএফ-১৫ লিভারের কোষগুলোকে নতুন করে বিন্যস্ত করে প্রদাহ ও ক্ষত কমাতে সহায়তা করে। এটি লিভারের রোগপ্রতিরোধ ব্যবস্থাকে আক্রমণাত্মক অবস্থা থেকে সুরক্ষামূলক অবস্থায় নিয়ে আসে। গবেষণার এই ফলাফল শরীরের নিজস্ব রোগপ্রতিরোধ ব্যবস্থার একটি অংশ হিসেবে কাজ করে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।