ঢাকাWednesday , 29 July 2026
  1. অর্থনীতি
  2. আইন ও বিচার
  3. আন্তর্জাতিক
  4. ইতিহাস
  5. খেলা
  6. খেলাধুলা
  7. চাকরি
  8. জাতীয়
  9. ধর্মীয় সম্প্রীতি
  10. পরিবেশ ও কৃষি
  11. প্রযুক্তি
  12. বিনোদন
  13. বিশেষ প্রতিবেদন
  14. বিশ্ব
  15. ভিডিও
আজকের সর্বশেষ সব খবর

মিয়ানমারের বিরুদ্ধে গণহত্যার মামলা চলবে: আন্তর্জাতিক আদালতের রায়

International Desk
July 23, 2026 2:50 pm
Link Copied!

নেদারল্যান্ডসের দ্য হেগে অবস্থিত আন্তর্জাতিক বিচার আদালতে (আইসিজে) মিয়ানমারের বিরুদ্ধে সংখ্যালঘু রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর ওপর চালানো গণহত্যার মামলাটি পরিচালনার রায় দেওয়া হয়েছে। মিয়ানমারের তোলা আপত্তি খারিজ করে দিয়ে আদালত জানিয়েছে, এই মামলাটি শোনার পূর্ণ আইনি এখতিয়ার তাদের রয়েছে।

গাম্বিয়া কর্তৃক দায়ের করা এই মামলার শুনানিতে মিয়ানমার দাবি করেছিল যে, আন্তর্জাতিক আদালতের কাছে মামলা করার মতো পর্যাপ্ত আইনি ভিত্তি গাম্বিয়ার নেই। তবে আদালতের বিচারক প্যানেলের প্রধান জোয়ান ডোনোহু রায়ের সারসংক্ষেপ পাঠ করে বলেন, ১৯৪৮ সালের জেনোসাইড কনভেনশনের সদস্য হিসেবে যেকোনো দেশ গণহত্যা প্রতিরোধের বাধ্যবাধকতা রাখে। তাই গাম্বিয়ার মামলা করার পূর্ণ অধিকার রয়েছে।

আদালতের এই রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, রোহিঙ্গা সংকটের টেকসই সমাধান এবং মিয়ানমারে তাদের সম্মানের সাথে প্রত্যাবর্তনের জন্য আন্তর্জাতিক ন্যায়বিচার ও দায়বদ্ধতা নিশ্চিত করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

মামলার পটভূমি

২০১৭ সালে মিয়ানমারের সামরিক বাহিনীর অভিযানে প্রায় সাত লাখ ৩০ হাজার রোহিঙ্গা বাংলাদেশে পালিয়ে আসতে বাধ্য হয়। জাতিসংঘের তথ্যানুসন্ধানকারী দল ওই সামরিক অভিযানকে ‘গণহত্যার শামিল’ হিসেবে চিহ্নিত করেছিল। এর প্রেক্ষিতে গাম্বিয়া আইসিজেতে এই মামলা দায়ের করে, যাকে ৫৭টি মুসলিম দেশের সংস্থা ওআইসি সমর্থন দিয়ে আসছে।

২০২০ সালে আদালত এক অন্তর্বর্তীকালীন আদেশে মিয়ানমারকে রোহিঙ্গাদের গণহত্যা থেকে সুরক্ষার নির্দেশ দিয়েছিল। তবে মানবাধিকার কর্মীদের মতে, এরপরও মিয়ানমারে রোহিঙ্গাদের ওপর পদ্ধতিগত নিপীড়ন ও বৈষম্যমূলক আচরণ অব্যাহত রয়েছে। দেশটিতে রোহিঙ্গাদের এখনো নাগরিকত্ব ও চলাচলের স্বাধীনতা দেওয়া হয়নি।

পরবর্তী পদক্ষেপ

আদালতের এই রায়ের পর এখন মামলাটির মূল বিচার প্রক্রিয়া শুরু হবে। আন্তর্জাতিক আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, মামলার পরবর্তী ধাপগুলো সম্পন্ন হতে কয়েক বছর সময় লেগে যেতে পারে। যদিও আদালতের রায় মানা বাধ্যতামূলক, তবুও এই রায় কার্যকর করার সরাসরি কোনো উপায় বা সামরিক সক্ষমতা আদালতের নেই। বর্তমানে মিয়ানমারে ২০২১ সালে ক্ষমতা দখলকারী সামরিক জান্তা ক্ষমতায় রয়েছে এবং তারা বিষয়টিকে ঘিরে কোনো ইতিবাচক পদক্ষেপ নেয়নি।