ঢাকাMonday , 14 September 2026
  1. অর্থনীতি
  2. আইন ও বিচার
  3. আন্তর্জাতিক
  4. ইতিহাস
  5. খেলা
  6. খেলাধুলা
  7. চাকরি
  8. জাতীয়
  9. ধর্মীয় সম্প্রীতি
  10. পরিবেশ ও কৃষি
  11. প্রযুক্তি
  12. বিনোদন
  13. বিশেষ প্রতিবেদন
  14. বিশ্ব
  15. ভিডিও
আজকের সর্বশেষ সব খবর

ইউক্রেন সংকট সমাধানে রাশিয়ার ওপর চাপ প্রয়োগ করতে অনিচ্ছুক যুক্তরাষ্ট্র

International Desk
July 23, 2026 5:49 pm
Link Copied!

ইউক্রেনের চলমান সংকটের মাঝে রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই লাভরভ এবং যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও ঐতিহাসিক এক বৈঠকে মিলিত হয়েছেন। আসিয়ান সম্মেলনের ফাঁকে অনুষ্ঠিত এই বৈঠকটি স্পষ্ট করেছে যে, ইউক্রেন থেকে নজর সরিয়ে মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতের দিকে মনোনিবেশ করছে ওয়াশিংটন।

সংক্ষেপে যা জানা গেছে

  • আসিয়ান সম্মেলনের পার্শ্ববৈঠকে দীর্ঘ প্রায় দুই বছর পর মুখোমুখি হলেন রুশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই লাভরভ ও মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও।
  • ইউক্রেন যুদ্ধ নিয়ে অগ্রগতি চাইলেও রাশিয়ার ওপর নতুন করে কোনো চাপ প্রয়োগ করতে আগ্রহী নয় বাইডেন প্রশাসন।
  • যুক্তরাষ্ট্র বর্তমানে তাদের পররাষ্ট্রনীতির মূল কেন্দ্রবিন্দু ইউক্রেন থেকে সরিয়ে মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিরতার দিকে নিয়ে গেছে।
  • দীর্ঘদিনের কূটনৈতিক অচলাবস্থা কাটানোর চেষ্টা হিসেবে এই বৈঠককে দেখা হচ্ছে, তবে এটি ইউক্রেন ইস্যুতে কোনো বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে না।

বিস্তারিত প্রতিবেদন

দীর্ঘ কূটনৈতিক শীতলতা কাটিয়ে গত ২৩ জুলাই আসিয়ান সম্মেলনের সাইডলাইনে মুখোমুখি হয়েছেন রুশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই লাভরভ এবং মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও। এটি ছিল ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরের পর দুই শীর্ষ কূটনীতিকের প্রথম সরাসরি আলোচনা। ইউক্রেন যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে রাশিয়ার সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্ক যখন তলানিতে, তখন এই বৈঠকটি আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

ফ্রান্স ২৪-এর সাংবাদিক কেথেভানে গর্জস্তানির মতে, বাইডেন প্রশাসন ইউক্রেন ইস্যুতে আলোচনার কথা বললেও তারা রাশিয়ার ওপর বাড়তি চাপ প্রয়োগের কোনো সদিচ্ছা দেখাচ্ছে না। বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে যুক্তরাষ্ট্র নিজেদের কৌশলগত অগ্রাধিকার পুনর্বিন্যাস করেছে। ইউক্রেনের চেয়েও বর্তমানে মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতি এবং সেই অঞ্চলে মার্কিন স্বার্থ রক্ষা করা ওয়াশিংটনের কাছে বেশি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এই পরিবর্তনের ফলে ইউক্রেন ইস্যুতে রাশিয়ার ওপর পূর্বের মতো কঠোর অবস্থানের জায়গা থেকে সরে আসছে মার্কিন পররাষ্ট্রনীতি।

বিশ্লেষণ

এই বৈঠকের মাধ্যমে এটি স্পষ্ট যে, আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে ক্ষমতার ভারসাম্য এবং অগ্রাধিকারের জায়গা প্রতিনিয়ত পরিবর্তিত হচ্ছে। ইউক্রেন যুদ্ধের সূচনালগ্নে রাশিয়াকে কূটনৈতিক ও অর্থনৈতিকভাবে কোণঠাসা করার যে কৌশল যুক্তরাষ্ট্র নিয়েছিল, তা এখন অনেকটাই ম্লান। ওয়াশিংটনের এই নতুন অবস্থানের পেছনে কয়েকটি কারণ কাজ করছে। প্রথমত, দীর্ঘস্থায়ী ইউক্রেন যুদ্ধের ক্লান্তি এবং এর ফলে সৃষ্ট অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক চাপ। দ্বিতীয়ত, মধ্যপ্রাচ্যে ক্রমবর্ধমান সংঘাত যা বিশ্ব অর্থনীতি ও নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে।

রাশিয়ার ওপর চাপ প্রয়োগে মার্কিন অনীহা ইঙ্গিত দেয় যে, তারা ইউক্রেন সংকটকে এখনই বড় কোনো সামরিক সংঘাত থেকে কূটনৈতিক সমঝোতার দিকে নিয়ে যেতে চাইছে না, অথবা তারা এখন রাশিয়ার সঙ্গে বড় ধরনের উত্তজনা এড়াতে চায়। তবে এই সিদ্ধান্ত ইউক্রেনের জন্য নতুন উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্র যদি রাশিয়ার ওপর চাপ কমিয়ে দেয়, তবে মাঠপর্যায়ে রাশিয়ার অবস্থান আরও শক্তিশালী হতে পারে, যা যুদ্ধের ভবিষ্যৎকে আরও অনিশ্চিত করে তুলবে। সামগ্রিকভাবে, এই বৈঠকটি রাশিয়ার প্রতি ওয়াশিংটনের ক্রমবর্ধমান নিরুত্তাপ কৌশলেরই বহিঃপ্রকাশ।

সূত্র: france24.com