যুক্তরাষ্ট্রের নিউ ইয়র্ক ও নিউ জার্সিভিত্তিক গবেষণা সংস্থা ওয়ার্কেরা-এর সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে উঠে এসেছে যে, বর্তমানে বিশ্বের প্রায় ৭০ শতাংশ কর্মী নিয়মিত কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তি ব্যবহার করছেন। তবে এর বিপরীতে অধিকাংশ কর্মীই নতুন দক্ষতা অর্জনের বা আপস্কিলিংয়ের জন্য পর্যাপ্ত সময় পাচ্ছেন না। ওয়ার্কেরা-এর প্রতিষ্ঠাতা ও সিইও কিয়ান কাতানফোরুশ জানিয়েছেন, এআই-এর যুগে টিকে থাকতে হলে প্রতিষ্ঠানগুলোকে কর্মীদের প্রশিক্ষণের জন্য কাজের ভেতরেই আলাদা সময় বের করে দিতে হবে।
প্রতিবেদনটি তৈরির জন্য যুক্তরাষ্ট্রে পাঁচ হাজার বা তার বেশি কর্মী রয়েছে এমন প্রতিষ্ঠানগুলোতে কর্মরত ১,০০০ পেশাজীবীর ওপর জরিপ চালানো হয়েছে। এতে দেখা গেছে, গত বছরের তুলনায় এআই টুলের ব্যবহার প্রায় ৩০ শতাংশ বেড়েছে। প্রায় ৬৭.৮ শতাংশ কর্মী এখন চ্যাটজিপিটি’র মতো টুলগুলো সপ্তাহে কয়েক দিন ব্যবহার করছেন।
তবে এই অগ্রগতির পথে বড় বাধা হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে সময় ও উপকরণের অভাব। জরিপে অংশ নেওয়া প্রায় ৫৬.৪ শতাংশ কর্মী জানিয়েছেন, তাদের কর্মঘণ্টায় দক্ষতা উন্নয়নের জন্য কোনো সময় বরাদ্দ থাকে না। এছাড়া ৪২.৫ শতাংশ কর্মী জানিয়েছেন, পর্যাপ্ত প্রশিক্ষণ উপকরণের অভাব রয়েছে। এমনকি ৮৪ শতাংশেরও বেশি কর্মী সপ্তাহে পাঁচ ঘণ্টার কম সময় নতুন কিছু শেখার পেছনে ব্যয় করতে পারছেন না।
কিয়ান কাতানফোরুশ বলেন, কর্মীরা এখন কাজের চাপে বিপর্যস্ত বোধ করছেন। প্রতিষ্ঠানগুলো এআই প্রযুক্তি গ্রহণের ওপর জোর দিলেও তা ব্যবহারের জন্য প্রয়োজনীয় সময় ও পরিবেশ নিশ্চিত করতে ব্যর্থ হচ্ছে। এর ফলে অনেক কর্মী বাধ্য হয়ে প্রাতিষ্ঠানিক সহায়তার বাইরে গিয়ে ব্যক্তিগত উদ্যোগে এআই টুল ব্যবহার করে দক্ষতা বাড়ানোর চেষ্টা করছেন।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, অধিকাংশ কর্মী মনে করেন এআই মানুষের পরিপূরক হিসেবে কাজ করতে পারে, কিন্তু এটি মানুষের জায়গা পুরোপুরি দখল করতে পারবে না। কর্মীদের মতে, কাজের প্রয়োজনে মানবিক বিচারবুদ্ধি এবং দক্ষতা মূল্যায়নের ক্ষেত্রে মানুষের ভূমিকার কোনো বিকল্প নেই। ওয়ার্কেরা পরামর্শ দিয়েছে, কাজের প্রবাহের মধ্যেই নিয়মিত দক্ষতা পরিমাপ এবং প্রশিক্ষণের সুযোগ নিশ্চিত করা গেলে এই সংকট কাটিয়ে ওঠা সম্ভব।