চীনের বেইজিংয়ে প্রযুক্তি জায়ান্ট শাওমি তাদের নতুন ফ্ল্যাগশিপ স্মার্টফোন ১৮ প্রো এবং ১৮ প্রো ম্যাক্স আনুষ্ঠানিকভাবে উন্মোচন করেছে। কোয়ালকমের নতুন স্ন্যাপড্রাগন ৮ এলিট সিরিজের চিপসেট ব্যবহারকারী প্রথম স্মার্টফোন হিসেবে বাজারে এসেছে এই সিরিজটি। হারওয়াইয়ের স্ন্যাপড্রাগন সামিটে ফোনগুলো সরাসরি দেখার অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে বলা যায়, শক্তিশালী প্রসেসর এবং উদ্ভাবনী ডিজাইনের কারণে এগুলো বর্তমান বাজারের অন্যতম শক্তিশালী ডিভাইস।
শাওমির এই নতুন ফোনগুলোর পেছনের অংশে একটি ওএলইডি (OLED) ডিসপ্লে যুক্ত করা হয়েছে, যা ক্যামেরা মডিউলের পাশেই অবস্থিত। এই দ্বিতীয় স্ক্রিনটি গুরুত্বপূর্ণ নোটিফিকেশন প্রদর্শন করা ছাড়াও সেলফি তোলার অভিজ্ঞতা উন্নত করে। ফোন উল্টো করে রাখা থাকলেও এই স্ক্রিন থেকে নোটিফিকেশন দেখে ব্যবহারকারী চাইলে স্ক্রল করা থেকে বিরত থাকতে পারেন। এছাড়া পেছনের ক্যামেরা ব্যবহার করে ভ্লগিং বা সেলফি তোলার সুবিধাও দিচ্ছে এই ডিসপ্লে।
ক্যামেরার সক্ষমতার দিক থেকে ১৮ প্রো ম্যাক্সে থাকছে ২০০ মেগাপিক্সেলের মূল ক্যামেরা, ২০০ মেগাপিক্সেলের টেলিফটো লেন্স এবং ৫০ মেগাপিক্সেলের আল্ট্রাওয়াইড ক্যামেরা। লাইকার সাথে শাওমির অংশীদারিত্বের ধারাবাহিকতায় এই ফোনের ছবির মান নিয়ে বেশ আশাবাদী প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞরা।
প্রাইভেসি ডিসপ্লে প্রযুক্তি
এই সিরিজের অন্যতম আকর্ষণ হলো প্রাইভেসি ডিসপ্লে প্রযুক্তি। স্যামসাংয়ের গ্যালাক্সি এস২৬ আল্ট্রার মতো এতেও দেখার কোণ সীমিত রাখা হয়েছে, যাতে শুধু সরাসরি স্ক্রিনের দিকে তাকিয়ে থাকা ব্যক্তিই বিষয়বস্তু দেখতে পারেন। শাওমি এতে বাড়তি সুবিধা হিসেবে সম্পূর্ণ স্ক্রিন বা নির্দিষ্ট অ্যাপের জন্য এই সুবিধা ব্যবহারের সুযোগ রেখেছে।
লঞ্চ ও বাজারজাতকরণ
ফোন দুটি বর্তমানে শুধু চীনের বাজারে পাওয়া যাচ্ছে। তবে ২০২৬ সালের শেষ নাগাদ বিশ্ববাজারে এগুলো উন্মোচনের পরিকল্পনা রয়েছে শাওমির। চীনে বাজারে আসা ডিভাইসগুলোতে যথাক্রমে ৭,০০০ মিলি অ্যাম্পিয়ার এবং ৮,৫০০ মিলি অ্যাম্পিয়ারের সিলিকন-কার্বন ব্যাটারি ব্যবহার করা হয়েছে। তবে আন্তর্জাতিক সংস্করণের ক্ষেত্রে কনফিগারেশনে কিছু পরিবর্তন আসতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।