লোহিত সাগরে সৌদি আরবের একটি তেলবাহী ট্যাংকারে ইরান সমর্থিত হুথি বিদ্রোহীদের হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন। অঞ্চলটিতে ক্রমবর্ধমান অস্থিতিশীলতা ও বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলে ঝুঁকির মুখে ইইউর শীর্ষ কূটনীতিক অবিলম্বে এই ধরনের উস্কানিমূলক কর্মকাণ্ড বন্ধের আহ্বান জানিয়েছেন।
- লোহিত সাগরে সৌদি আরবের একটি ট্যাংকারে হামলা চালিয়েছে ইরান সমর্থিত হুথি বিদ্রোহীরা।
- ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ কূটনীতিক এই হামলাকে উস্কানিমূলক হিসেবে আখ্যা দিয়ে তা বন্ধের দাবি জানিয়েছেন।
- অব্যাহত এই হামলার ফলে আন্তর্জাতিক সামুদ্রিক বাণিজ্যের নিরাপত্তা মারাত্মক হুমকির মুখে পড়েছে।
- হুথিদের এই তৎপরতা মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে উত্তজনা ও ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতা বাড়িয়ে দিচ্ছে।
লোহিত সাগরে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক জাহাজগুলোর ওপর সাম্প্রতিক হামলার ঘটনাগুলোর মধ্যে অন্যতম হিসেবে সৌদি আরবের একটি ট্যাংকারে এই হামলার বিষয়টি সামনে এসেছে। ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ পররাষ্ট্র ও নিরাপত্তা নীতি বিষয়ক প্রতিনিধি হুথিদের এই কর্মকাণ্ডকে আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘন এবং অগ্রহণযোগ্য বলে বর্ণনা করেছেন।
সাম্প্রতিক সময়ে লোহিত সাগরে হুথিদের আক্রমণাত্মক তৎপরতা বৃদ্ধি পাওয়ায় বিশ্বজুড়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে তেল ও পণ্যবাহী ট্যাংকারগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করায় আন্তর্জাতিক সরবরাহ চেইন বাধাগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। ইইউর পক্ষ থেকে স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দেওয়া হয়েছে যে, এ ধরনের কর্মকাণ্ড আঞ্চলিক শান্তি ও স্থিতিশীলতাকে নস্যাৎ করছে। কোনো প্রকার উস্কানি ছাড়াই নিরপরাধ বাণিজ্যিক জাহাজের ওপর এই হামলাকে আঞ্চলিক নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হিসেবে দেখা হচ্ছে।
বিশ্লেষণ
হুথিদের এই হামলা কেবল একটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়, বরং মধ্যপ্রাচ্যের চলমান ভূ-রাজনৈতিক সংঘাতের একটি বহিঃপ্রকাশ। ইরান সমর্থিত বিদ্রোহী গোষ্ঠীটি লোহিত সাগরের কৌশলগত পয়েন্টগুলোতে বারবার হামলা চালিয়ে নিজেদের শক্তিমত্তা প্রদর্শনের চেষ্টা করছে। এর ফলে একদিকে যেমন বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম বাড়ার ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে, তেমনি সামুদ্রিক নিরাপত্তারক্ষায় নিয়োজিত পশ্চিমা দেশগুলোর সঙ্গে ইরান-সমর্থিত গোষ্ঠীগুলোর সরাসরি সংঘাতের ক্ষেত্র প্রশস্ত হচ্ছে।
ইউরোপীয় ইউনিয়নের এই কঠোর অবস্থান ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, লোহিত সাগরে নৌ-চলাচলের স্বাধীনতা বজায় রাখতে তারা যেকোনো ধরণের কূটনৈতিক বা নিরাপত্তা পদক্ষেপ নিতে পিছপা হবে না। তবে হুথিরা যদি তাদের এই অবস্থানে অটল থাকে, তবে ভবিষ্যতে অঞ্চলটিতে বড় ধরনের সামরিক অস্থিরতা সৃষ্টির সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যায় না। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে এখন কৌশলগত এই জলপথটি নিরাপদ রাখতে সম্মিলিত প্রচেষ্টার দিকেই নজর দিতে হবে।
সূত্র: rfi.fr