যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটনে强制পূর্বক শ্রম নিষিদ্ধকরণ আইন যথাযথভাবে বাস্তবায়ন না করার অভিযোগে বাংলাদেশসহ ৬০টি বাণিজ্য অংশীদারের পণ্যের ওপর নতুন শুল্ক আরোপ করেছে মার্কিন প্রশাসন। যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য প্রতিনিধি জেমিসন গ্রিয়ার জানিয়েছেন, মানবাধিকার রক্ষা ও বাণিজ্যিক চর্চা সংশোধনের লক্ষ্যে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
শুক্রবার (২৪ জুলাই) স্থানীয় সময় রাত ১২টা ১ মিনিট থেকে এই নতুন শুল্ক ব্যবস্থা কার্যকর হয়েছে। ফেডারেল রেজিস্টারে প্রকাশিত নোটিশ অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের মোট আমদানির প্রায় ৯৯ দশমিক ৪ শতাংশ পণ্য এই শুল্কের আওতায় পড়বে। তবে তেল, গ্যাস, সার এবং কিছু খাদ্যপণ্য এই তালিকার বাইরে রাখা হয়েছে।
১৯৭৪ সালের ট্রেড অ্যাক্টের সেকশন ৩০১-এর অধীনে এই শুল্ক কার্যকর করা হয়েছে। ট্রাম্প প্রশাসনের দাবি, অতীতের আইনি চ্যালেঞ্জগুলোতে এই ধারা টিকে যাওয়ায় নতুন এই শুল্ক ব্যবস্থা আইনগতভাবে বেশ শক্তিশালী। এর মাধ্যমে সুপ্রিম কোর্টের রায়ের পরেও আমদানির ওপর একটি ন্যূনতম শুল্ক বহাল রাখা সম্ভব হবে বলে মনে করছে ওয়াশিংটন।
নতুন শুল্কের হার ও আওতাভুক্ত দেশ
চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, বাংলাদেশ, আর্জেন্টিনা, যুক্তরাজ্য, ভারত, পাকিস্তান, মালয়েশিয়া, মেক্সিকোসহ বেশ কিছু দেশের পণ্যের ওপর ১০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করা হয়েছে। এছাড়া ইউরোপীয় ইউনিয়ন, জাপান ও দক্ষিণ কোরিয়ার মতো দেশগুলোর ক্ষেত্রে বিদ্যমান শুল্কহারের সঙ্গে সমন্বয় করে মোট কার্যকর হার ১০ থেকে ১২ দশমিক ৫ শতাংশ নির্ধারণ করা হয়েছে।
চীনসহ অন্য ৩৮টি দেশের জন্য শুল্কের হার নির্ধারণ করা হয়েছে ১২ দশমিক ৫ শতাংশ। চীন অবশ্য উইঘুর সংখ্যালঘু সম্প্রদায়কে শ্রমে বাধ্য করার মার্কিন অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে।
বাণিজ্য প্রতিনিধি জেমিসন গ্রিয়ার জানিয়েছেন, বাধ্যতামূলক শ্রমে উৎপাদিত পণ্যের আমদানি নিষিদ্ধ করার বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্র দীর্ঘকাল ধরে কঠোর অবস্থান নিয়েছে। এখন অন্যান্য বাণিজ্য অংশীদারদেরও একই নীতি অনুসরণের আহ্বান জানানো হয়েছে। আগামী ২৮ জুলাই পর্যন্ত পরিবহনরত পণ্য এই নতুন শুল্কের আওতামুক্ত থাকবে।