যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে প্রথমবারের মতো ফেয়ারফোন তাদের নতুন স্মার্টফোন মডেল ‘ফেয়ারফোন ৬ প্লাস’ নিয়ে এসেছে। প্রযুক্তিবিষয়ক সংবাদমাধ্যম জেডডিনেট-এর পর্যালোচক জ্যাক ওয়ালেন জানিয়েছেন, ৬৪৯ ডলার মূল্যের এই হ্যান্ডসেটটি ব্যবহারকারীদের জন্য একটি ভারসাম্যপূর্ণ অ্যান্ড্রয়েড ডিভাইস হতে পারে। দীর্ঘস্থায়ী এবং সহজে মেরামত করা যায় এমন প্রযুক্তির কারণে এটি বর্তমানের ব্যয়বহুল ফ্ল্যাগশিপ ফোনের একটি নির্ভরযোগ্য বিকল্প।
ফেয়ারফোন মূলত এমন ইলেকট্রনিক ডিভাইস তৈরির জন্য পরিচিত যা পরিবেশের ক্ষতি কমায় এবং নৈতিক মান বজায় রাখে। নেদারল্যান্ডসভিত্তিক এই কোম্পানিটি এখন তাদের নতুন এই মডিউলার ফোনটি মার্কিন গ্রাহকদের জন্য উন্মুক্ত করেছে, যা এটিএন্ডটি এবং টি-মোবাইল নেটওয়ার্কের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ।
স্মার্টফোনটির অন্যতম প্রধান বৈশিষ্ট্য হলো এর ১১টি আলাদা যন্ত্রাংশ, যা ব্যবহারকারীরা নিজেরাই প্রয়োজনমতো পরিবর্তন করতে পারেন। এর মধ্যে নতুন ব্যাটারি মাত্র ৪০ ডলারে পাওয়া যাবে, যা বর্তমান স্মার্টফোন বাজারে বিরল। এছাড়া ফোনটিতে স্ন্যাপড্রাগন ৭এস জেন ৪ প্রসেসর, ১২ জিবি র্যাম এবং ২৫৬ জিবি স্টোরেজ রয়েছে। এর ৬.৩১ ইঞ্চির এলটিপিও ওলেড ডিসপ্লে ১২০ হার্জ রিফ্রেশ রেট পর্যন্ত সাপোর্ট করে।
ফোনটিতে একটি বিশেষ ‘এসেনশিয়াল’ সুইচ রয়েছে, যার মাধ্যমে ব্যবহারকারী চাইলে জটিল ফিচার বাদ দিয়ে সাধারণ মোডে ফোনটি ব্যবহার করতে পারবেন। এটি মূলত ব্যাটারি সাশ্রয় এবং নির্দিষ্ট কাজের জন্য প্রয়োজনীয় অ্যাপ ব্যবহারের সুবিধা দেয়।
ডিভাইসটির স্থায়িত্ব এবং পরিবেশবান্ধব ডিজাইনের পাশাপাশি এর সফটওয়্যার সাপোর্ট নিয়েও বড় ঘোষণা দিয়েছে কোম্পানিটি। ফেয়ারফোন ৬ প্লাস মডেলটিতে ৮ বছরের আপডেট এবং ৫ বছরের ওয়ারেন্টি সুবিধা পাওয়া যাবে। বাজেটের মধ্যে টেকসই ফোন খুঁজছেন এমন ব্যবহারকারীদের জন্য এটি একটি আদর্শ পছন্দ হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।