যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব ক্যালিফোর্নিয়া-বার্কলির গবেষকরা মেদ বা চর্বি ঝরানোর একটি নতুন কৌশল উদ্ভাবন করেছেন। তাদের গবেষণায় দেখা গেছে, টিওএফএ (TOFA) নামের একটি রাসায়নিক যৌগ শরীরে পেশির ক্ষয় না ঘটিয়েই বাড়তি মেদ কমাতে সাহায্য করে। বার্কলির অধ্যাপক অ্যান্ডার্স ন্যার এই গবেষণার নেতৃত্ব দিয়েছেন। ওজন কমানোর বর্তমান প্রচলিত ওষুধের চেয়ে এটি ভিন্নভাবে কাজ করে, যা স্থূলতা ও ডায়াবেটিস চিকিৎসায় নতুন দিগন্ত উন্মোচন করতে পারে।
গবেষণা পদ্ধতি
বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন, ওজেম্পিক বা ওয়েগোভির মতো বর্তমানে বহুল ব্যবহৃত জিএলপি-১ (GLP-1) জাতীয় ওষুধগুলো মূলত মানুষের ক্ষুধা কমিয়ে ওজন কমাতে সাহায্য করে। কিন্তু এর ফলে অনেক সময় শরীরে পুষ্টির ঘাটতি ও পেশি ক্ষয়ের ঝুঁকি তৈরি হয়। অন্যদিকে, টিওএফএ যৌগটি শরীরের মেদ উৎপাদন প্রক্রিয়াকে বাধাগ্রস্ত করার পাশাপাশি শরীরের কোষগুলোকে চর্বি পুড়িয়ে শক্তি উৎপাদনে উৎসাহিত করে। ইঁদুরের ওপর চালানো পরীক্ষায় দেখা গেছে, এটি শরীরের শক্তি ব্যবহারের হার ১৮ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধি করে।
কেন গুরুত্বপূর্ণ
গবেষণায় দেখা গেছে, টিওএফএ ব্যবহারের ফলে ইঁদুরের শরীরে ইনসুলিন সংবেদনশীলতা বৃদ্ধি পেয়েছে, রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে এসেছে এবং ফ্যাটি লিভারের সমস্যা কমেছে। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো, এই প্রক্রিয়ায় প্রাণীদের শরীরের পেশির কোনো উল্লেখযোগ্য ক্ষতি হয়নি। গবেষকদের দাবি, বিদ্যমান জিএলপি-১ ওষুধের সাথে এই যৌগটি যুক্ত করলে ওজন কমানোর প্রক্রিয়াটি আরও শক্তিশালী ও কার্যকর হতে পারে।
ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা
তবে গবেষকরা সতর্ক করেছেন যে, এই ফলাফল এখন পর্যন্ত কেবল ইঁদুরের ওপর চালানো পরীক্ষার মাধ্যমেই পাওয়া গেছে। মানুষের শরীরে এই যৌগের কার্যকারিতা এবং নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এখনো অনেক দীর্ঘ পথ পাড়ি দিতে হবে। বার্কলির গবেষকরা এই গবেষণাকে এগিয়ে নিতে ‘রিআরএক্স থেরাপিউটিকস’ (ReRx Therapeutics) নামের একটি কোম্পানি গঠন করেছেন। ভবিষ্যতে এটি স্থূলতা ও বিপাকজনিত রোগ চিকিৎসায় একটি কার্যকর ওষুধ হিসেবে ব্যবহৃত হতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে।