ভারতের রাজধানী দিল্লিতে মেডিকেল কলেজে ভর্তি পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের প্রতিবাদে টানা ২৬ দিন অনশনের পর তা ভেঙেছেন সমাজকর্মী ও শিক্ষাবিদ সোনম ওয়াংচুক। কেন্দ্রীয় দুই মন্ত্রীর উপস্থিতি এবং সংসদ সদস্যদের অনুরোধে তিনি এই অনশন ভাঙেন। প্রশ্নফাঁসের ঘটনায় সৃষ্ট অস্থিরতা ও সম্ভাব্য সহিংসতা এড়াতে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন তিনি।
অনশন ভাঙার বিষয়টি শুক্রবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে নিশ্চিত করেন সোনম ওয়াংচুক। তিনি জানান, কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জেপি নাড্ডা এবং ড. জিতেন্দ্র সিংয়ের উপস্থিতিতে এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের ৬৫ সংসদ সদস্যের আহ্বানে সাড়া দিয়ে তিনি দীর্ঘদিনের অনশন শেষ করেছেন। আন্দোলনের বিস্তারিত শর্তাবলি নিয়ে খুব শীঘ্রই ভিডিও বার্তার মাধ্যমে বিস্তারিত জানাবেন বলেও তিনি উল্লেখ করেন। তবে তিনি সবাইকে সতর্ক থেকে যেকোনো ধরনের সহিংসতা পরিহারের আহ্বান জানিয়েছেন।
মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষার প্রশ্নফাঁসের জেরে প্রায় ২০ লাখ শিক্ষার্থী ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। এ অনিয়মের ঘটনায় একাধিক শিক্ষার্থী আত্মহত্যা করেছেন বলেও আন্দোলনকারীরা দাবি করেছেন। আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী সংগঠন ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, সোনম ওয়াংচুকের অনশন ভাঙলেও শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত তাদের আন্দোলন চলবে।
প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি অনশন পরবর্তী সময়ে সোনম ওয়াংচুককে চিকিৎসকদের পরামর্শ মেনে শরীর পুনরুদ্ধারের আহ্বান জানিয়েছেন। অন্যদিকে, শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান দাবি করেছেন যে সরকার পরীক্ষা ব্যবস্থার সংস্কার এবং শিক্ষার্থীদের উদ্বেগ নিরসনে কাজ করছে।
আন্দোলনের মুখে দিল্লির যন্তর মন্তরে বৃহস্পতিবার ব্যাপক বিক্ষোভ হয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নিতে কেন্দ্রীয় এলাকায় ১৬টি মেট্রো স্টেশন বন্ধ রাখা হয়েছে এবং মোবাইল ইন্টারনেট সেবা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে। এর ফলে সাধারণ জনজীবন ও ব্যবসায়িক কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। আগামী দিনে পুলিশের বলপ্রয়োগের প্রতিবাদে নতুন করে দেশব্যাপী বিক্ষোভের ডাক দিয়েছেন আন্দোলনকারীরা।