যুক্তরাষ্ট্রের লস স্যান্টোস শহরের ভার্চুয়াল পরিবেশে জনপ্রিয় ভিডিও গেম জিটিএ ৫-এর জন্য তৈরি একটি নতুন মোডে ফ্লক সার্ভেইল্যান্স ক্যামেরা যুক্ত করা হয়েছে। গেমটির নির্মাতা মরি কোলম্যান জানান, বাস্তবের নজরদারি ব্যবস্থার আদলে তৈরি ২৩৫টি ক্যামেরা গেমে যুক্ত করা হয়েছে, যা খেলোয়াড়দের প্রতিটি মুহূর্ত ট্র্যাক করবে। এই মোডটি ধ্বংস করার সুযোগ তৈরি করার মাধ্যমে খেলোয়াড়দের নজরদারির বিরুদ্ধে এক ধরণের ভার্চুয়াল প্রতিবাদে অংশ নেওয়ার সুযোগ দিচ্ছে।
গেমটিতে ক্যামেরাগুলো শুধু খেলোয়াড়দের গতিবিধি অনুসরণই করে না, বরং গতিসীমা লঙ্ঘন বা পথচারীদের আঘাত করার মতো অপরাধ করলে পুলিশকেও খবর দেয়। এমনকি বাস্তবের মতো অনেক সময় এগুলো ভুল রিপোর্টও প্রদান করে, যা খেলোয়াড়দের অনাকাঙ্ক্ষিত পুলিশি ধাওয়ার মুখে ফেলে। মোডটির নির্মাতা কোলম্যানের মতে, এটি গেমটিকে আরও চ্যালেঞ্জিং করে তুলেছে, কারণ প্রতি ২০ বারের মধ্যে একবার ক্যামেরাগুলো বিনা কারণে পুলিশি অ্যালার্ট তৈরি করে।
খেলোয়াড়রা রকেট লঞ্চারের মতো শক্তিশালী অস্ত্র ব্যবহার করে এই ক্যামেরাগুলো ধ্বংস করতে পারেন। প্রতিটি ক্যামেরা ধ্বংস করলে খেলোয়াড়রা ইন-গেম রিওয়ার্ড হিসেবে ৬০০ ডলার করে পাবেন। এই পরিমাণের পেছনের কারণ হলো, আসল ফ্লক ক্যামেরার অভ্যন্তরীণ যন্ত্রাংশের আনুমানিক মূল্যও একই।
এই মোডটি তৈরি করা হয়েছে মূলত বাস্তবের নজরদারি প্রযুক্তির সীমাবদ্ধতা এবং এর অপব্যবহারের বিরুদ্ধে সচেতনতা তৈরির উদ্দেশ্যে। বর্তমানে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের রাস্তাঘাটে ব্যাপকভাবে ফ্লক লাইসেন্স প্লেট রিডার ক্যামেরা বসানো হচ্ছে, যার ফলে সাধারণ মানুষের গোপনীয়তা লঙ্ঘনের ঝুঁকি বাড়ছে। জিটিএ ৫-এর এই নতুন মোডটি খেলোয়াড়দের সেই পরিস্থিতির সাথে পরিচয় করিয়ে দেওয়ার পাশাপাশি নজরদারির বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানানোর একটি কাল্পনিক প্ল্যাটফর্ম হিসেবে কাজ করছে।