বাংলাদেশের ঢাকা থেকে স্বাস্থ্যসেবা ও আধুনিক চিকিৎসা বিষয়ে ইসলামের দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরেছেন বাংলাদেশ জাতীয় ইমাম সমিতির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অধ্যক্ষ মুফতি মাওলানা শাঈখ মুহাম্মাদ উছমান গনী। তিনি জানান, শরিয়তের বিধিবিধান এবং জাগতিক বা প্রাকৃতিক বিষয়ের মধ্যে পার্থক্য রয়েছে, যা আধুনিক চিকিৎসা গ্রহণের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ।
ইসলামি শরিয়াহর মৌলিক পাঁচটি উদ্দেশ্যের একটি হলো জীবন সুরক্ষা। নবীজি (সা.)-এর জীবনকে মূলত তাশরিয়িয়াত বা ধর্মীয় বিধিবিধান এবং তাকবিনিয়াত বা প্রাকৃতিক ও জাগতিক—এই দুই ভাগে ভাগ করা হয়েছে। কৃষি বা চিকিৎসার মতো বিষয়গুলো তাকবিনিয়াতের অন্তর্ভুক্ত, যেখানে সময়ের সাথে মানুষের জ্ঞান ও প্রযুক্তির উন্নয়ন ঘটে। সাহাবায়ে কিরামের খেজুরগাছের পরাগায়নের উদাহরণ দিয়ে তিনি জানান, জাগতিক বিষয়ে নবীজি (সা.) মানুষের অভিজ্ঞতার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন।
অধ্যক্ষ মুফতি মাওলানা শাঈখ মুহাম্মাদ উছমান গনী বলেন, ওহুদের যুদ্ধে ব্যবহৃত প্রাচীন চিকিৎসার পদ্ধতি বা শিঙা লাগানো সে সময়ের প্রচলিত ব্যবস্থা ছিল। বর্তমান সময়ে এসবের চেয়ে আধুনিক চিকিৎসা গ্রহণ করা জরুরি এবং এটিই বাস্তবসম্মত। অসুস্থ হলে দ্রুত চিকিৎসা নেওয়া ইবাদতের অংশ। নবীজি (সা.)-এর বাণী অনুযায়ী, বার্ধক্য ছাড়া সব রোগেরই প্রতিষেধক রয়েছে। তাই সুস্থতা ও রোগ প্রতিরোধের জন্য টিকা বা ভ্যাকসিন গ্রহণ এবং স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা অত্যন্ত কার্যকর ও প্রয়োজনীয়।
পরিশেষে তিনি উল্লেখ করেন, পবিত্রতা ও পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা হলো স্বাস্থ্য সুরক্ষার প্রধান শর্ত। নামাজ ও ইবাদতের পাশাপাশি নিজের ঘর, আঙিনা এবং চারপাশ পরিচ্ছন্ন রাখাও শরিয়াহর অবিচ্ছেদ্য অংশ। প্রত্যেকের শরীরের ওপর নিজের হক রয়েছে, আর সেই হক রক্ষা করাই হলো স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা। জনস্বার্থে ও পরিবারের কল্যাণে সচেতন থাকা ইসলামি শরিয়াহর গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা।