বিশ্বজুড়ে আজ ২৫ জুলাই পালিত হচ্ছে আন্তর্জাতিক লাল জুতা দিবস। শরীরের বাইরে থেকে বোঝা যায় না এমন কঠিন সব রোগের শিকার মানুষের অদৃশ্য কষ্টের গল্প সামনে নিয়ে আসাই এই দিবসের মূল উদ্দেশ্য। গ্লোবাল লাইম অ্যান্ড ইনভিজিবল ইলনেস অর্গানাইজেশন (জিএলআইও)সহ সংশ্লিষ্টরা জানান, এই দিবসের মাধ্যমে লাইম রোগ, ফাইব্রোমায়ালজিয়া এবং ক্রনিক ফ্যাটিগ সিনড্রোমের মতো জটিল রোগে আক্রান্তদের প্রতি সহমর্মিতা প্রকাশ করা হয়।
দিবসটির পেছনের ইতিহাস
২০১৪ সালে প্রথম এই দিবসটি পালিত হয়। এর পেছনে রয়েছে লাইম রোগে আক্রান্ত হয়ে ২০১৩ সালে মৃত্যুবরণকারী থেডা মাইয়েন্ট। তার স্মৃতিকে বাঁচিয়ে রাখতে এবং তার মতো অসংখ্য মানুষের জন্য সচেতনতা তৈরিতে বন্ধু ও পরিবারের সদস্যরা থেডার প্রিয় লাল জুতাকে এই আন্দোলনের প্রতীকে পরিণত করেন। জিএলআইও-এর প্রতিষ্ঠাতা ক্যারেন স্মিথ ও লিসা হিলটন এই উদ্যোগের পেছনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।
কেন এই দিবস গুরুত্বপূর্ণ
লাল জুতা এখানে কোনো ফ্যাশন নয়, বরং সাহস এবং সংহতির প্রতীক। অনেক মানুষ হাসিখুশি জীবন কাটালেও ভেতরে শারীরিক যন্ত্রণার সঙ্গে লড়াই করছেন। লাল জুতা পরার মাধ্যমে রোগীরা বোঝাতে চান যে তারা একা নন। এই দিবস মানুষকে প্রশ্ন করতে শেখায় যে, হাসিমুখের আড়ালে কারও কোনো গোপন কষ্ট লুকিয়ে আছে কি না। এর মাধ্যমে চিকিৎসাবিজ্ঞানে গবেষণা ও উন্নত চিকিৎসার প্রয়োজনীয়তা নিয়েও আলোচনার পথ প্রশস্ত হয়।
কীভাবে পালন করা যায়
সচেতনতা বৃদ্ধিতে ব্যক্তিগত পর্যায়ে লাল জুতা পরে ছবি ও অভিজ্ঞতা শেয়ার করা যেতে পারে। এছাড়া লাল রঙের থিমে সামাজিক আয়োজন, অদৃশ্য রোগ নিয়ে সচেতনতামূলক আলোচনা, পদযাত্রা এবং আক্রান্তদের সহায়তায় কাজ করা সংস্থাগুলোর সঙ্গে যুক্ত হওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে। শিল্পকলা ও কর্মশালার মাধ্যমেও এই বার্তা সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়া সম্ভব।
এক জোড়া লাল জুতা মনে করিয়ে দেয় যে, মানুষের সব কষ্ট চোখে ধরা দেয় না। তাই অন্যের হাসিমুখ দেখে তার সংগ্রামের গুরুত্ব ছোট করে দেখার সুযোগ নেই।