ঢাকাTuesday , 25 August 2026
  1. অর্থনীতি
  2. আইন ও বিচার
  3. আন্তর্জাতিক
  4. ইতিহাস
  5. খেলা
  6. খেলাধুলা
  7. চাকরি
  8. জাতীয়
  9. ধর্মীয় সম্প্রীতি
  10. পরিবেশ ও কৃষি
  11. প্রযুক্তি
  12. বিনোদন
  13. বিশেষ প্রতিবেদন
  14. বিশ্ব
  15. ভিডিও
আজকের সর্বশেষ সব খবর

গঙ্গা চুক্তি: সংকটের সময়েই ন্যায্য পানি থেকে বঞ্চিত বাংলাদেশ


August 25, 2026 9:45 am
Link Copied!

ভারতের নয়াদিল্লিতে অবস্থিত গবেষণা প্রতিষ্ঠান ইমপ্যাক্ট অ্যান্ড পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউট (আইএমপিআরআই)-এর সাম্প্রতিক এক গবেষণায় দেখা গেছে, শুষ্ক মৌসুমে গঙ্গার পানি নিয়ে ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের দীর্ঘদিনের সংকট চরম আকার ধারণ করেছে। গবেষণা অনুযায়ী, ২০০৮ থেকে ২০১৬ সালের মধ্যে পানির প্রবাহ কমে যাওয়ার মতো ২৭টি ঘটনার মধ্যে ১৫টিতেই অর্থাৎ ৫৫ দশমিক ৫ শতাংশ ক্ষেত্রে বাংলাদেশ চুক্তির নির্ধারিত ন্যূনতম পানি পায়নি। পানির জরুরি চাহিদার সময়ে এই ঘাটতি বাংলাদেশের জন্য বড় ধরনের উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

গবেষণাটিতে বলা হয়েছে, ১৯৯৬ সালে সম্পাদিত ৩০ বছর মেয়াদি গঙ্গা পানি চুক্তি নদীর পানি বণ্টনের ক্ষেত্রে একটি ভিত্তি তৈরি করলেও, শুষ্ক মৌসুমে ভাটির দেশ হিসেবে বাংলাদেশের অধিকার নিশ্চিত করতে এটি ব্যর্থ হয়েছে। গবেষক কিম্বারলি এ থমাসের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, নদীর প্রবাহ স্বাভাবিক থাকার সময় ভারত পানি ছাড়লেও, যখন বাংলাদেশে পানির তীব্র হাহাকার থাকে ঠিক তখনই চুক্তি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় পানি পাওয়া যায় না।

ওয়াটার পলিসি জার্নালের তথ্যে দেখা যায়, ১৯৯৭ থেকে ২০১৬ সালের মধ্যে প্রতি ১০ দিনের হিসেবে করা ৩০০টি পর্যালোচনার মধ্যে ৩১ শতাংশ সময়ে হার্ডিঞ্জ ব্রিজে প্রত্যাশিত পানি পৌঁছায়নি। বিশেষ করে ১১ মার্চ থেকে ১০ মে—যা চুক্তিতে সবচেয়ে খরা প্রবণ সময় হিসেবে চিহ্নিত—সেখানে পরিস্থিতির অবনতি ঘটেছে আরও বেশি। এ সময়ে ১২০টি হিসাবের ৪৩ শতাংশ ক্ষেত্রেই প্রত্যাশিত পানি পাওয়া যায়নি।

হার্ডিঞ্জ ব্রিজ ও ফারাক্কা পয়েন্টের পানি পরিমাপের এই বড় ব্যবধানের পেছনে ফারাক্কা ও হার্ডিঞ্জ ব্রিজের মধ্যবর্তী এলাকায় অনিয়ন্ত্রিত পানি প্রত্যাহার, নদীর গতিপথ ও গঠনগত পরিবর্তন এবং পরিমাপ ব্যবস্থার সীমাবদ্ধতাকে দায়ী করেছে আইএমপিআরআই।

আগামী ডিসেম্বরে চুক্তিটি নবায়নের প্রেক্ষাপটে সংস্থাটি নতুন চুক্তিতে ফারাক্কার পরিবর্তে হার্ডিঞ্জ ব্রিজের পানির পরিমাপকে মূল ভিত্তি হিসেবে গণ্য করার পরামর্শ দিয়েছে। এছাড়া জলবায়ু পরিবর্তন বিবেচনায় রেখে পরিবর্তনশীল বণ্টন ব্যবস্থা, যৌথ ডিজিটাল তথ্যভাণ্ডার চালু এবং সংকটকালে পানি বণ্টনের স্পষ্ট বিধান যুক্ত করার আহ্বান জানানো হয়েছে। গবেষকদের মতে, এবারের নবায়ন যেন কেবল প্রথাগত দলিল না হয়ে বরং দুই দেশের নদী ব্যবস্থাপনা ও ভাটির মানুষের জীবন-জীবিকা রক্ষার একটি যুগোপযোগী কাঠামো হয়।