সেনেগালের সাবেক প্রেসিডেন্ট ম্যাককি সাল জাতিসংঘের শীর্ষ পদে আসীন হওয়ার দৌড়ে নেমেছেন। প্রায় তিন দশক পর কোনো আফ্রিকান নেতা হিসেবে বিশ্বসংস্থার নেতৃত্ব পাওয়ার লক্ষ্য নিয়ে তিনি সংস্থাটিতে নতুন করে আস্থা ফেরানো এবং এর কার্যক্রমকে আরও গতিশীল করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।
সংক্ষেপে যা জানা গেছে
- সেনেগালের সাবেক প্রেসিডেন্ট ম্যাককি সাল জাতিসংঘের পরবর্তী মহাসচিব হওয়ার দৌড়ে অন্যতম শক্তিশালী প্রার্থী হিসেবে আবির্ভূত হয়েছেন।
- তিনি বিশ্বসংস্থার ওপর সদস্য রাষ্ট্রগুলোর হারানো আস্থা ফিরিয়ে আনা এবং এর সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়াকে আরও কার্যকর করার অঙ্গীকার করেছেন।
- দীর্ঘ প্রায় ৩০ বছর পর কোনো আফ্রিকান নেতা হিসেবে এই বৈশ্বিক সংস্থায় নেতৃত্ব দেওয়ার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছেন তিনি।
- বর্তমান বৈশ্বিক সংকটময় মুহূর্তে জাতিসংঘের কার্যকারিতা বাড়ানোই তার প্রধান এজেন্ডা বলে জানিয়েছেন।
বিস্তারিত প্রতিবেদন
সেনেগালের সাবেক প্রেসিডেন্ট ম্যাককি সাল আন্তর্জাতিক রাজনীতির কেন্দ্রবিন্দুতে নতুন আলোড়ন তৈরি করেছেন। তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করেছেন যে, তিনি জাতিসংঘের নেতৃত্বের জন্য লড়বেন। তার এই উদ্যোগকে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। সাল মনে করেন, বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতা এবং একাধিক আঞ্চলিক সংঘাতের মুখে জাতিসংঘ তার কাঙ্ক্ষিত ভূমিকা রাখতে হিমশিম খাচ্ছে।
তিনি জোর দিয়ে বলেছেন, জাতিসংঘকে আরও আধুনিক এবং প্রাসঙ্গিক করে তোলা এখন সময়ের দাবি। বিশ্বজুড়ে সংঘাত প্রশমন, জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলা এবং উন্নয়নশীল দেশগুলোর স্বার্থ রক্ষায় সংস্থাটিকে ঢেলে সাজানোর প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন তিনি। ম্যাককি সাল বিশ্বাস করেন যে, তার দীর্ঘ রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা এবং আফ্রিকান ইউনিয়নের মতো সংস্থার সাথে কাজ করার দক্ষতা তাকে এই বৈশ্বিক দায়িত্ব পালনে যোগ্য করে তুলেছে।
বিশ্লেষণ
ম্যাককি সালের এই প্রার্থী হওয়ার ঘোষণা এমন এক সময়ে এল যখন জাতিসংঘ তার দীর্ঘস্থায়ী গঠনতন্ত্র এবং নিরাপত্তা পরিষদের অকার্যকারিতা নিয়ে বড় ধরনের প্রশ্নের মুখে রয়েছে। দীর্ঘ কয়েক দশক ধরে জাতিসংঘের শীর্ষ পদগুলোতে এশিয়া, ইউরোপ বা আমেরিকার প্রতিনিধিদের আধিপত্য দেখা গেছে। এমতাবস্থায়, একজন আফ্রিকান নেতার উত্থান বিশ্ব রাজনীতিতে ‘গ্লোবাল সাউথ’ বা উন্নয়নশীল বিশ্বের কণ্ঠস্বর জোরালো করার একটি বড় সুযোগ হতে পারে।
বিশ্লেষকদের মতে, সাল যদি সফল হন, তবে এটি আফ্রিকা মহাদেশের জন্য একটি ঐতিহাসিক অর্জন হবে। তবে তার জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হবে পরাশক্তিগুলোর রাজনৈতিক স্বার্থের ভারসাম্য রক্ষা করা। যদি তিনি জাতিসংঘের কার্যকারিতায় স্বচ্ছতা এবং দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা যোগ করতে পারেন, তবেই সংস্থাটির ওপর সাধারণ মানুষের আস্থা পুনরায় প্রতিষ্ঠিত হবে। তার এই মিশন একদিকে যেমন কূটনৈতিক সাহসিকতার পরিচয় দেয়, অন্যদিকে বর্তমান বিশ্বব্যবস্থার কাঠামোগত পরিবর্তনের একটি বড় ইঙ্গিতও বহন করে।
সূত্র: rfi.fr