বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকার বাড্ডায় অটোরিকশাচালক মো. উলিউর রহমান অলিকে (২৪) হত্যার পর মরদেহ মাটিচাপা দেওয়ার ঘটনায় বাড্ডা থানায় দুই জনকে আটক করা হয়েছে। পূর্বশত্রুতার জেরে এই হত্যাকাণ্ড ঘটেছে বলে নিশ্চিত করেছেন বাড্ডা থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. মাহমুদুল হাসান। ঘটনার গুরুত্ব বিবেচনায় পুলিশ বিষয়টি তদন্ত করছে।
নিহত অলি কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলার লতিফপুর গ্রামের মৃত আসাদ মিয়া ও নাজমা বেগমের ছেলে। তিনি পূর্ব বাড্ডার জোড়াখাম্বা এলাকায় কামরুল নামে এক ব্যক্তির বাসায় ভাড়া থাকতেন। বৃহস্পতিবার রাতে পূর্ব বাড্ডার একটি পরিত্যক্ত জমি থেকে মরদেহটি উদ্ধার করে পুলিশ। মরদেহটি পলিথিনে মোড়ানো অবস্থায় মাটিচাপা দেওয়া ছিল।
মরদেহের সুরতহাল প্রতিবেদনে দেখা গেছে, নিহতের মাথার পেছনে, বাম কানের নিচে জখম এবং মাথার খুলিতে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। এছাড়া একটি ফুলহাতা শার্ট দিয়ে মুখমণ্ডল শক্ত করে বাঁধা ছিল। শুক্রবার সকালে ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহটি ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
নিহতের খালাতো ভাই রুবেল জানান, অলি গত ২১ জুলাই থেকে নিখোঁজ ছিলেন। তার অটোরিকশাটি উদ্ধার করা গেলেও তাকে পাওয়া যাচ্ছিল না। পরদিন পূর্ব বাড্ডার বালুর মাঠ এলাকায় ময়লার পাশে অলির ব্যবহৃত স্যান্ডেল ও রক্তমাখা পাঞ্জাবি পাওয়া গেলে পুলিশকে খবর দেওয়া হয়।
প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, টাকা-পয়সা সংক্রান্ত বিরোধের জেরে এই হত্যাকাণ্ড ঘটে থাকতে পারে। নিহতের পরিবারের দাবি, অলির বন্ধু জাহিদ অলির মায়ের কাছ থেকে ৭০ হাজার টাকা ধার নিয়েছিলেন, যা ফেরত না দেওয়া নিয়ে তাদের মধ্যে বিরোধ ছিল। তবে হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত কারণ তদন্তের পর নিশ্চিত হওয়া যাবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।