মধ্যপ্রাচ্যের উপসাগরীয় অঞ্চলে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলা এবং অধিকৃত পশ্চিম তীরে ইসরায়েলের নতুন সামরিক অভিযানের মধ্য দিয়ে আঞ্চলিক সংঘাত আরও তীব্র আকার ধারণ করেছে। আল জাজিরার প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, এই উত্তেজনাকর পরিস্থিতিতে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে এবং সামরিক তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে।
উপসাগরীয় অঞ্চলের পরিস্থিতি
ইরানের ছোড়া ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করার দাবি করেছে বাহরাইন ও কুয়েত। বাহরাইনে হামলার আশঙ্কায় সতর্কতামূলক সাইরেন বাজানো হয়েছে। একই সঙ্গে জর্ডানে অবস্থিত মার্কিন বিমানঘাঁটি আল-আজরাক লক্ষ্য করে হামলা চালানোর দাবি করেছে ইরানি সেনাবাহিনী। এছাড়া ইরাকের এরবিল শহরে ড্রোন হামলার পর সেখানকার বিমানবন্দর সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছিল, যা পরে পুনরায় চালু করা হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের পাল্টা হামলা
যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড জানিয়েছে, টানা ১৩তম রাতের মতো ইরানের বিভিন্ন স্থানে বিমান হামলা চালিয়েছে তারা। ইরানি গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, খোররামাবাদ, জাস্ক, আহভাজ, বন্দর আব্বাস এবং কেশম দ্বীপে একাধিক বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। আহভাজের কাছে মার্কিন ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় চারজন নিহত ও পাঁচজন আহত হয়েছেন। এছাড়া খোররামাবাদ ও বন্দর আব্বাসে আরও দুইজন করে আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক রাখার বিষয়ে আলোচনার জন্য ওমানের একটি প্রতিনিধি দল তেহরানে পৌঁছেছে।
পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি অভিযান
অধিকৃত পশ্চিম তীরের নাবলুস এবং পার্শ্ববর্তী গ্রামগুলোতে ব্যাপক সামরিক অভিযান শুরু করেছে ইসরায়েলি বাহিনী। অবৈধ ইসরায়েলি বসতি হাভাত গিলাদের কাছে বন্দুকযুদ্ধে চার ফিলিস্তিনি ও দুই ইসরায়েলি নাগরিক নিহত হওয়ার পর ইসরায়েল এই কঠোর অবস্থান গ্রহণ করে।
সংঘাতের প্রভাব
উপসাগরীয় অঞ্চলে পাল্টাপাল্টি হামলা, হরমুজ প্রণালির নিরাপত্তা সংকট এবং পশ্চিম তীরে ইসরায়েলের এই নতুন সামরিক অভিযান সামগ্রিক মধ্যপ্রাচ্য পরিস্থিতিকে আরও জটিল ও সংকটাপন্ন করে তুলছে বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন।