বাংলাদেশের লালমনিরহাটের হাতীবান্ধা থানায় আটক এক মাদক কারবারিকে গাড়ি ও মাদকসহ ছেড়ে দেওয়ার অভিযোগে চার পুলিশ কর্মকর্তাকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জেলা পুলিশ সুপার মো. আসাদুজ্জামান জানান, অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে। শৃঙ্খলা ভঙ্গের দায়ে দায়িত্বরত কর্মকর্তাদের প্রত্যাহার এবং তদন্ত কমিটি গঠনের বিষয়টি স্থানীয় পুলিশ প্রশাসনে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি করেছে।
প্রত্যাহার হওয়া চার পুলিশ কর্মকর্তা হলেন হাতীবান্ধা থানার উপপরিদর্শক (এসআই) রিমন মিয়া ও তুহিন মিয়া, এবং সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) আবদুল হাকিম ও লুৎফর রহমান। গত বৃহস্পতিবার তাঁদের হাতীবান্ধা থানা থেকে প্রত্যাহার করে জেলা পুলিশ লাইনসে সংযুক্ত করা হয়। একই সঙ্গে ঘটনার তদন্তের জন্য অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) শাহাদত হোসেনকে প্রধান করে তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটিকে আগামী সাত কার্যদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে।
তদন্ত কমিটি
তিন সদস্যের এই কমিটির অন্য সদস্যরা হলেন হাতীবান্ধা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আশরাফুজ্জামান সরকার এবং জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) পুলিশের ওসি রওশন কবীর। ইতিমধ্যে তদন্ত কমিটির প্রধান অতিরিক্ত পুলিশ সুপার শাহাদত হোসেন ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন।
ঘটনাসূত্র
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ১৭ জুলাই বিকেলে সীমান্ত এলাকা থেকে এক মাদক কারবারিকে আটক করে হাতীবান্ধার ভেলাগুড়ি ইউনিয়ন পরিষদে নিয়ে যান ওই চার পুলিশ কর্মকর্তা। এ সময় তাদের সঙ্গে একটি সাদা প্রাইভেট কার, একটি মোটরসাইকেল ও মাদকদ্রব্য ছিল। অভিযোগ রয়েছে, ইউনিয়ন পরিষদের দুই সদস্য ও এক চৌকিদারের উপস্থিতিতে মোটা অঙ্কের অর্থের বিনিময়ে ওই কারবারিকে ছেড়ে দেওয়া হয়। এই পুরো ঘটনাটি ইউনিয়ন পরিষদের সিসিটিভি ক্যামেরায় রেকর্ড হয়েছে। অভিযুক্ত কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাদের সাড়া পাওয়া যায়নি।