বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকার কাঁঠালবাগান ও বাংলামোটর এলাকায় মাঠহীন ভবনে একাধিক স্কুলের শিক্ষা কার্যক্রম চলছে, যা শিশুদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশের ক্ষেত্রে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। বর্তমানে কাঁঠালবাগানের খান হাসান আদর্শ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও খোদেজা খাতুন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় একটিই ভবনে কার্যক্রম পরিচালনা করছে, যার কোনোটিতেই নেই খেলার মাঠ। খেলাধুলাকে পাঠ্যক্রমে বাধ্যতামূলক করার সরকারি নির্দেশনার বিপরীতে এই অবকাঠামোগত সংকটের বিষয়টি উঠে এসেছে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের তথ্য ও শিক্ষাবিদদের পর্যবেক্ষণে।
ঢাকার ৩৪২টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মধ্যে ২৫২টিতেই নিজস্ব কোনো খেলার মাঠ নেই; মাত্র ৯০টি বিদ্যালয়ে মাঠের সুবিধা রয়েছে। এছাড়া সারা দেশে মোট ১০ হাজার ৭৪০টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠবিহীন অবস্থায় রয়েছে। মোহাম্মদপুরের বরাব সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের চিত্রও ভিন্ন নয়, যেখানে স্কুল আঙিনাটি স্যাঁতসেঁতে ও অপ্রতুল।
রমনা থানা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার আজিজা আক্তার জানান, যেসব স্কুলে নিজস্ব মাঠ নেই, তাদের পার্শ্ববর্তী অন্য কোনো স্কুল বা এলাকার খোলা জায়গা ব্যবহারের জন্য সমন্বয়ের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। কুষ্টিয়ার সহকারী জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মোছা. শাহানাজ বেগমও একই ধরনের উদ্যোগের কথা জানিয়েছেন। নির্মাণাধীন ভবনের নিচতলায় সীমিত পরিসরে অ্যাসেম্বলি বা খেলাধুলার ব্যবস্থা রাখার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।
আগামী ২০২৭ সাল থেকে প্রাথমিক শিক্ষায় খেলাধুলাকে পাঠ্যক্রমে অন্তর্ভুক্ত ও বাধ্যতামূলক করার উদ্যোগ নিয়েছে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়। জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ডের (এনসিটিবি) সদস্য অধ্যাপক মুহাম্মদ ফাতিহুল কাদীর জানান, মাঠ সংকট একটি মৌলিক সমস্যা। বিষয়টি প্রধানমন্ত্রীর নজরে আনার প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।
শিক্ষাবিদ রাশেদা কে চৌধুরী এই পরিস্থিতি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তিনি বলেন, অবকাঠামোগত এই বাস্তবতা উপেক্ষা করে শিশুদের স্বপ্ন বাস্তবায়ন করা অসম্ভব। শহরের স্কুলগুলোতে বিকল্প খেলার জায়গার সংস্থান করার জন্য তিনি কর্তৃপক্ষের প্রতি জোর দাবি জানিয়েছেন।